অকটেন জাহাজে সরবরাহ স্বস্তি ফিরল

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতজনিত অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যে দেশে অকটেন নিয়ে একটি বড় জাহাজ পৌঁছানোকে তাৎক্ষণিক স্বস্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায় ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের জাহাজটি, যাতে ছিল প্রায় ছাব্বিশ হাজার টন অকটেন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, এই চালানটি সরবরাহ করেছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভিটল। তবে জ্বালানিটি মূলত মালয়েশিয়া থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এই অকটেন খালাস ও বাজারে সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহিরুল হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে অকটেনের কোনো তাৎক্ষণিক সংকট নেই এবং নতুন এই চালান দ্রুত খালাস করে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দিনের মধ্যেই পুরো জাহাজের পণ্য খালাস সম্পন্ন হতে পারে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর দেশের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেনের ঘাটতি ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়। অনেক স্থানে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও গ্রাহকরা জ্বালানি পাননি, আবার কোথাও সরাসরি “অকটেন নেই” সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এক মাস পেরিয়ে গেলেও বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি আমদানিকারক সংস্থা। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট জ্বালানি সরবরাহে অকটেনের অংশ তুলনামূলকভাবে কম হলেও এটি ব্যক্তিগত পরিবহন খাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসে এই জ্বালানি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে মোট অকটেন বিক্রি হয়েছে প্রায় চার লাখ পনেরো হাজার টন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক দেশেই উৎপাদিত হয়েছে এবং বাকি অংশ আমদানি নির্ভর। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে অকটেনের মজুত ছিল প্রায় দশ হাজার পাঁচশ ছাব্বিশ টন। মার্চ মাসে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল এক হাজার দুইশ বাইশ টন, যা সরবরাহ সংকটের কারণে এপ্রিলে কিছুটা কমে এক হাজার একশ চৌদ্দ টনে নেমে আসে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন চালানটি সাময়িক চাপ কমাতে সাহায্য করবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানি ব্যবস্থাপনা ও মজুত নীতিতে আরও সমন্বয় প্রয়োজন।

নিচে বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—

বিষয়তথ্য
জাহাজের নামএমটি সেন্ট্রাল স্টার
মোট অকটেন পরিমাণপ্রায় ২৬ হাজার টন
আগমনের স্থানচট্টগ্রাম বন্দর
সরবরাহকারীভিটল (মালয়েশিয়া উৎস)
দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থামেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড
বর্তমান মজুতপ্রায় ১০,৫২৬ টন
দৈনিক গড় বিক্রি (মার্চ)১,২২২ টন
দৈনিক গড় বিক্রি (এপ্রিল)১,১১৪ টন

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সংঘাত পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতে আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে নতুন করে জাহাজ আগমন বাজারে অন্তত স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।