নাটোরে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ

নাটোর জেলার কয়েকটি এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) টানা আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিদ্যুৎ পরিবহন লাইনের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লাইনের আশপাশে থাকা গাছের ডালপালা ছাঁটাইয়ের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদনের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার স্থানীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকাল পর্যন্ত এই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলবে। এ সময় নির্দিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে বলে আগেই জানানো হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ লাইনের ওপর ঝুলে থাকা বা নিকটবর্তী গাছের ডালপালা বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। ঝড়, বাতাস বা বৃষ্টির সময় এসব ডালপালা লাইনের ওপর পড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা, শর্ট সার্কিট এমনকি অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবেই এই ছাঁটাই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আজকের এই কাজের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছুটা ভোগান্তি হতে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা, সেচ কার্যক্রম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গৃহস্থালি কাজে বিদ্যুৎ নির্ভরতা থাকায় অনেকেই সমস্যায় পড়তে পারেন। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, সাময়িক এই অসুবিধাকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও উন্নত সেবার স্বার্থে গ্রহণ করতে।

বিদ্যুৎ বন্ধের সময়সূচি ও এলাকা

এলাকা/অঞ্চলসময়কারণদায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা
নাটোর জেলার বাইপাস সড়ক সংলগ্ন ও আশপাশের কয়েকটি এলাকাসকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টাবিদ্যুৎ লাইনের আশপাশে গাছের ডালপালা ছাঁটাই ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজনর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই

স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছে, কাজ চলাকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ছাড়া নিরাপদভাবে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। কাজ শেষ হলে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক করা হবে।

এছাড়া গ্রাহকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, এই সময় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখার জন্য, বিশেষ করে পানির পাম্প, চার্জিং ব্যবস্থা এবং জরুরি বিদ্যুৎনির্ভর কাজ আগেই সম্পন্ন করার জন্য। একই সঙ্গে শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট প্রতিরোধে সহায়ক হবে।