টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কার আধিপত্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ব্যাটসম্যানদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন ‘ছক্কা’ কে কেন্দ্র করে। পরিসংখ্যান ও মাঠের পারফরম্যান্সের আলোকে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ২০২৫ সালের শুরু থেকে এমন এক ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছেন যিনি টি–টুয়েন্টির বাজারে ‘ছক্কা মেশিন’ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন।
ফারহান এই সময়ে মোট ৬৯ ইনিংসে ১৫০টি ছক্কা মেরেছেন। এটি তাকে বর্তমান সময়ে ছক্কা তালিকার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। তারকাবহুল প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভাল্ড ব্রেভিস ৫৯ ইনিংসে ১৪৪টি ছক্কা মারলেও ফারহানের চেয়ে ছয়টি কম। ভারতের অভিষেক শর্মা ৫৬ ইনিংসে ১৩৬টি ছক্কা করেছেন। চারে ও পাঁচে থাকা ফিন অ্যালেন ও নিকোলাস পুরান যথাক্রমে ১৩৩ ও ১৩০টি ছক্কা মারেছেন।
টি–টুয়েন্টিতে শীর্ষ পাঁচ ছক্কাবাজের পরিসংখ্যান
| ব্যাটসম্যান | দেশ | ইনিংস | ছক্কা | গড় রান | সেঞ্চুরি | স্ট্রাইক রেট | চার |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| সাহিবজাদা ফারহান | পাকিস্তান | ৬৯ | ১৫০ | ৪২.০৫ | ৭ | ১৫২.৫৮ | ২৪৩ |
| ডেভাল্ড ব্রেভিস | দক্ষিণ আফ্রিকা | ৫৯ | ১৪৪ | ৩৯.৫৭ | ৫ | ১৫০.৪ | ২৩১ |
| অভিষেক শর্মা | ভারত | ৫৬ | ১৩৬ | ৪১.২০ | ৩ | ২০০.৮১ | ২২৪ |
| ফিন অ্যালেন | নিউজিল্যান্ড | ৫২ | ১৩৩ | ৩৮.৭৫ | ২ | ১৬৫.৩০ | ২১৮ |
| নিকোলাস পুরান | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ৭০ | ১৩০ | ৩৭.৪২ | ২ | ১৪৬.৯ | ২১৭ |
ফারহানের ছক্কা প্রাধান্যের পাশাপাশি, তিনি সেঞ্চুরির হিসাবেও অন্যদের ছাপিয়ে গেছেন। ২০২৫ সালের শুরু থেকে তিনি মোট ৭টি সেঞ্চুরি করেছেন, যেখানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভারতের ঈশান কিষান ৪টি সেঞ্চুরি।
মোট রানেও ফারহান সবার ওপরে। ৪২.০৫ গড়ে ২৬৯০ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। একই সময়ে নিউজিল্যান্ডের টিম সাইফার্ট ২১৯৭ রান করেছেন, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
তবে স্ট্রাইক রেটে ফারহান অন্যদের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে। শীর্ষ পাঁচ ছক্কাবাজের মধ্যে তার ১৫২.৫৮ রেটের তুলনায় সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট অভিষেক শর্মার ২০০.৮১। এর ফলে দেখা যায়, ফারহানের ধারাবাহিকতা ও ধৈর্য তাঁকে রানের পরিমাণে শীর্ষে রাখলেও স্ট্রাইক রেটে তিনি সর্বোচ্চ নয়।
ছক্কা ও চার মারার ক্ষেত্রে ফারহানের দাপটই সবচেয়ে বেশি। মোট চার ২৪৩টি, যা সর্বোচ্চ। এই সময়ে শীর্ষে থাকা ফারহানের এই ব্যালান্স এবং স্ট্রাইক রেটের পার্থক্য তাঁকে আরও দক্ষ ও কৌশলী ব্যাটসম্যান হিসেবে চিহ্নিত করে।
ফারহানের এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে যে, টি–টুয়েন্টি ক্রিকেট এখন শুধুমাত্র দৌড় ও বল হাতে রাখার খেলা নয়; এটি ছক্কার আধিপত্য এবং খেলার কৌশলগত মাধুর্যের মেলবন্ধন।
