মালিবাগ থেকে রামপুরা পর্যন্ত পথ অবৈধ দখল উচ্ছেদ

রাজধানীর যানজট হ্রাস এবং পথচারীদের চলাচল নিরাপদ করতে মালিবাগ রেলগেট থেকে রামপুরা কাঁচাবাজার পর্যন্ত ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় ফুটপাত দখল করে থাকা ছোট ছোট অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পথ ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা এসব দোকানপাট ভেঙে ফেলা হয়েছে। পুলিশ অভিযানে বিভিন্ন মালামালও বাজেয়াপ্ত করেছে। এছাড়া, সড়কের পাশে অযথা পার্কিং করা মিনি ট্রাক ও মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। কয়েকজন দোকানিকে ফুটপাতে পণ্য রাখার অপরাধে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুর রহমান জানান, ২৩ মার্চ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর অনেক দোকানি নিজ উদ্যোগে ফুটপাত ও সড়ক খালি করেছেন। তবে যারা এখনও অবৈধভাবে দখল রেখেছেন, তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) বলেন, “রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পথচারীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই অভিযান নিয়মিত চালু থাকবে।”

উচ্ছেদ অভিযানের প্রাথমিক পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:

ক্রমিককার্যক্রমসংখ্যা/পরিমাণ
উচ্ছেদকৃত অবৈধ দোকান৫০টি
বাজেয়াপ্ত মালামাল১৩৫টি আইটেম
উচ্ছেদ অভিযুক্ত যানবাহন১৫টি মিনি ট্রাক, ২২টি মোটরসাইকেল
জরিমানা প্রাপ্ত দোকানি১৮ জন
মোট জরিমানা৭০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা

স্থানীয়রা উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। মালিবাগ থেকে রামপুরা পর্যন্ত পথচারীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত-দখল থাকায় নিরাপদভাবে চলাচল করা সম্ভব ছিল না। উচ্ছেদ অভিযানের পর পথচারীদের চলাচল অনেক সহজ হয়েছে এবং সড়কে যানজটও কমেছে।

উল্লেখযোগ্য, ঢাকা মহানগর পুলিশ ভবিষ্যতেও নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ফুটপাত ও সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগ শুধু আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নয়, বরং নগরীর সড়ক ব্যবস্থাপনাকে আরও নিরাপদ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মালিবাগ থেকে রামপুরা পর্যন্ত এই অভিযান পথচারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং যানজট কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।