সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন কার্যবিধি ঘোষণা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্ষমতা, জনসেবা মান ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশনা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মোসা. তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত নোটিশের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে অফিস কার্যক্রমে দায়িত্বশীল আচরণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং আন্তঃদপ্তর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি, কর্মদক্ষতা এবং অফিস পরিচালনায় শৃঙ্খলা রক্ষা করাই এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য।

গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসমূহ

নিচের টেবিলে প্রতিপালনের জন্য নির্ধারিত মূল নির্দেশনা তুলে ধরা হলো:

নির্দেশনাবিস্তারিতলক্ষ্য/কারণ
সকাল ৯টা–৯টা ৪০ মিনিট উপস্থিতিপ্রতিটি কর্মকর্তা নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান নিশ্চিত করবেঅফিস শৃঙ্খলা ও সেবা সুবিধা নিশ্চিত করা
বিদ্যুৎ সাশ্রয়প্রাকৃতিক আলো থাকলে লাইট বন্ধ; কেবল প্রয়োজনীয় লাইট, ফ্যান ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারবিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থা
এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারতাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখার নির্দেশজ্বালানি সাশ্রয় ও স্বাচ্ছন্দ্য
অফিস ত্যাগের সময়কক্ষের সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ করতে হবেনিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়
করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুমঅপ্রয়োজনীয় লাইট ব্যবহার বন্ধজ্বালানি সাশ্রয়
পরিচ্ছন্নতাঅফিস কক্ষ, করিডোর, সিঁড়ি, হাতল, টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবেস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা
মনিটরিংপ্রতিটি দপ্তরে ভিজিল্যান্স টিম গঠননির্দেশনা প্রতিপালন নিশ্চিত করা

নোটিশে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, অফিসের দাপ্তরিক কর্মসূচি প্রণয়নের সময় সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কর্মসূচিতে কোন বিঘ্ন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করে লাইট ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সীমিতভাবে ব্যবহার করা জরুরি। অফিস চলাকালীন শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালু রাখা এবং ব্যবহার শেষে বন্ধ করা বাধ্যতামূলক।

প্রতিটি দপ্তরকে অফিস, করিডোর, সিঁড়ি এবং টয়লেটসহ সকল স্থানের পরিচ্ছন্নতা ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করতে হবে। এটি সরকারের কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে প্রণীত একটি উদ্যোগ।

সারসংক্ষেপে, সরকারি দপ্তরে সময়ানুবর্তিতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সরকারের নীতি অনুযায়ী জনসেবা মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীল আচরণ এই উদ্যোগ সফল করার জন্য অপরিহার্য।