
বাংলাদেশে মশার উপদ্রব এবং মশাবাহিত রোগের বিস্তার এখন এক গভীর জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পার্বত্য অঞ্চল রাঙামাটিতে দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর ম্যালেরিয়ায় শিশুমৃত্যুর ঘটনা এই সংকটের ভয়াবহতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে জানা যায়, ২০২৫ সালে দেশে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা গত নয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদিও একসময় এই রোগ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, বর্তমানে তা আবার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু, জিকা ও চিকুনগুনিয়ার মতো অন্যান্য মশাবাহিত রোগও ক্রমশ বিস্তার লাভ করছে।
Table of Contents
| রোগের নাম | বাহক মশা | প্রধান লক্ষণ | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| ডেঙ্গু | এডিস | জ্বর, রক্তক্ষরণ | সারা বছর সংক্রমণ |
| ম্যালেরিয়া | অ্যানোফিলিস | জ্বর, কাঁপুনি | সীমান্ত এলাকায় বেশি |
| জিকা | এডিস | গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি | নতুন করে বিস্তারের আশঙ্কা |
| চিকুনগুনিয়া | এডিস | তীব্র গাঁটব্যথা | দ্রুত বিস্তারমান |
জলবায়ুর পরিবর্তন মশার বংশবৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে গড় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে, বিশেষ করে শীতকাল আগের তুলনায় উষ্ণ হচ্ছে। ২৬ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মশার প্রজননের জন্য আদর্শ—যা এখন প্রায় সারা বছরই বিরাজমান।
এছাড়া বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্ষাকালে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হলেও বর্ষা শেষে অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকছে। এই স্থির পানি মশার জন্য নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি করছে।
ডেঙ্গু একসময় রাজধানী বা বড় শহরের রোগ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি দেশের প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আক্রান্তদের বড় অংশই শহরের বাইরে বসবাসকারী। অথচ গ্রামীণ এলাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি রোগ নয়; এটি সারা বছরের স্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে চিকুনগুনিয়া ও জিকার সংক্রমণও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হলেও নতুন কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত দ্রুত পরীক্ষায় অনেক সময় সঠিক ফল পাওয়া যাচ্ছে না। জীবাণুর জিনগত পরিবর্তনের কারণে পরীক্ষায় ভুল ফল আসছে, ফলে রোগ শনাক্তে বিলম্ব হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেশী দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সীমান্ত দিয়ে মানুষের চলাচল রোগ বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। ফলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মশাবাহিত রোগের কারণে মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপও ব্যাপকভাবে বাড়ছে। একটি পরিবারে ডেঙ্গুর চিকিৎসা করতে গিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যয় পরিবারের মাসিক আয়ের চেয়েও বেশি হয়ে যায়।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে, এমনকি সম্পদ বিক্রির মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হচ্ছে।
মশার উপদ্রব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধমূলক পণ্যের ব্যবহারও বেড়েছে। কয়েল, স্প্রে, ক্রিমসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে এসব পণ্যের মান ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
যথাযথ তদারকি না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে এসব পণ্য ব্যবহার করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে নতুন ধরনের মশাবাহিত ভাইরাস দেশে প্রবেশ করতে পারে। কিউলেক্স মশার মাধ্যমে ফাইলেরিয়া ও জাপানি এনসেফালাইটিসের মতো রোগের ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি পরিযায়ী পাখির মাধ্যমে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের বিস্তারও ঘটতে পারে।
এই ভাইরাসগুলো মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে এবং মৃত্যুঝুঁকিও অত্যন্ত বেশি।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, সঠিক নগর পরিকল্পনা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই যদি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে মশাবাহিত রোগ ভবিষ্যতে দেশের সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে।
> ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র দাম বৃদ্ধি: আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতি
> রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় অনিয়ম: ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারে কিশোরী ধর্ষণ
> বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন, বাতিল মাহবুবুল আলমের চুক্তি
> খোকসায় পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার, মাদ্রাসাছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ
> হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইয়েমেনের ৩০ সেনা নিহত, আহত অর্ধশতাধিক
> তনু হত্যা: সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের জামিন বাতিল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের আদেশ
> ঝাঁসিতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গ্যাংস্টার আতিকের ছোট ছেলে নিহত
> চলতি অর্থবছরেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরে ভোট: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
> আওয়ামী লীগ আমাদের মিত্র, অচিরেই বিএনপির সঙ্গে মিশে যাবে: এমপি নাছির
> সীমান্ত থেকে ১৩০০ কিমি গভীরে রাশিয়ার শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা
> ইনু মামলার রায় ঘিরে বিচারব্যবস্থার পরীক্ষা
> প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে
> সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস শাখা, ঠিকানা ও ফোন নম্বর
> ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দের তালিকা ও ফোন নম্বর
> করিয়ারদিয়ায় মাছের ঘের দখলচেষ্টা, অস্ত্রসহ দুইজন জনতার হাতে আটক
> বানরের আতঙ্কে ভীত লালবাজারবাসী ডিসি বরাবর আবেদন
> চাটখিলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
> আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক গৌরবগাথা ও সংগ্রাম
> ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য