,

মাগুরায় বেড়াতে এসে গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে এক গৃহবধূর করুণ মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বড় উদাস গ্রামে একটি ফসলের খেত থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার দুপুরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে, যিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূ লিমা খাতুন (২৪) বড় উদাসপুর গ্রামের বাসিন্দা হাই জোয়ার্দারের মেয়ে। তাঁর স্বামী সুজন শেখ (২৫) পাশের ঝিনাইদহ জেলার হাট গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় সাত বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ লিমা খাতুন বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর স্বামী সুজন শেখ ফোন করে তাঁকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে ডেকে নেন। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে নিয়ে গিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।

বুধবার সকাল প্রায় ১১টা ২০ মিনিটে স্থানীয় কৃষক জামাল শেখ নিজের জমিতে কাজ করতে গিয়ে একটি নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহটি ছিল বিবস্ত্র অবস্থায় এবং গলায় রশি প্যাঁচানো ছিল। খবর পেয়ে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে এসে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রতীয়মান হয়েছে। আটক সুজন শেখ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, দাম্পত্য কলহের জের ধরেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর পর তিনি এই অপরাধের পথ বেছে নেন বলে জানিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও আলামত বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়েন অভিযুক্ত। তবে ঘটনার আরও বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিচে ঘটনাটির মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
নিহতের নামলিমা খাতুন (২৪)
স্বামীর নামসুজন শেখ (২৫)
ঘটনাস্থলবড় উদাস গ্রাম, শ্রীপুর, মাগুরা
মরদেহ উদ্ধারের সময়বুধবার সকাল ১১:২০ মিনিট
সন্দেহভাজনস্বামী (আটক)
সম্ভাব্য কারণদাম্পত্য কলহ
পারিবারিক অবস্থাদুই সন্তানের জননী

পুলিশ সুপার আরও জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাঁকে দ্রুত আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা রোধ করা যায়।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।