শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিনদিন ছুটি

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবারও টানা তিন দিনের ছুটির আওতায় আসছে। আগামী রবিবার (৫ এপ্রিল) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে এ ছুটি কার্যকর হবে। এর ফলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একটানা তিন দিনের বিরতি উপভোগ করবেন।

খ্রিস্টান ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ইস্টার সানডে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এ দিনে যিশু খ্রিস্ট মৃত্যুকে জয় করে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। ধর্মীয় ইতিহাস অনুসারে, এর আগে গুড ফ্রাইডেতে তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়, যা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক গভীর শোকের দিন হিসেবে বিবেচিত। এরপর তৃতীয় দিনে, অর্থাৎ রবিবারে তাঁর পুনরুত্থান ঘটে—যা আনন্দ ও মুক্তির প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হয়।

সাপ্তাহিক ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ও শনিবার (৪ এপ্রিল) নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি থাকায়, রবিবারের ইস্টার সানডে যুক্ত হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো টানা তিন দিন বন্ধ থাকবে। ফলে এ সময়ে শিক্ষার্থীরা যেমন বিশ্রামের সুযোগ পাবে, তেমনি শিক্ষক-শিক্ষিকারাও কিছুটা অবকাশ পাবেন।

এদিকে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি নতুন সময়সূচি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে এবং বাকি তিন দিন সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালিত হবে। সম্প্রতি শিক্ষা-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থার কার্যক্রম নিম্নরূপভাবে পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে—

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সাপ্তাহিক কার্যক্রম

দিনপাঠদানের ধরন
রবিসরাসরি শ্রেণিকক্ষ
সোমঅনলাইন পাঠদান
মঙ্গলসরাসরি শ্রেণিকক্ষ
বুধঅনলাইন পাঠদান
বৃহস্পতিসরাসরি শ্রেণিকক্ষ
শুক্রঅনলাইন পাঠদান

তবে এই পরিকল্পনা এখনো সম্পূর্ণভাবে চূড়ান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন, কোনো বাস্তব সমস্যা দেখা দিলে এই সময়সূচি পুনর্বিবেচনা ও সংশোধন করা হতে পারে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, উৎসব ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিনের অবকাশ শিক্ষাক্ষেত্রে এক ধরনের স্বস্তি এনে দেবে। একই সঙ্গে নতুন পাঠদানের মিশ্র পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ভিন্নধর্মী পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।