৬ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়। এই নতুন দাম আজ বিকেল থেকেই কার্যকর হবে।
বাজুসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নিম্নরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে:
| স্বর্ণের ক্যারেট | প্রতি ভরির নতুন দাম (টাকা) | ভ্যাটসহ দাম (৫%) |
|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট (হলমার্ক) | ২,৪১,৪৪৫ | ২,৫৩,৫১৭ |
| ২১ ক্যারেট | ২,৩০,৪২৩ | ২,৪১,৯৪৪ |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৯৭,৫৩০ | ২,০৭,৪০৬ |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৬০,৮৪৭ | ১,৬৮,৮৯০ |
বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনার দাম বৃদ্ধির প্রভাব রয়েছে। তবে মূলত এই বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি অন্যতম কারণ। নিউইয়র্কের স্পট মার্কেটে ২৭ মার্চ স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ১১০ ডলার বেড়ে ৪,৪৯৪ ডলারে পৌঁছেছে।
গত ৩০ দিনে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৭৯৫ ডলার কমেছিল। ফলে ১২ মার্চ থেকে ১৬ দিনে দেশের বাজারে প্রতি ভরির দাম সর্বাধিক ৩৫,৫৭৫ টাকা কমানো হয়েছিল। এরপর আজ দুই দফায় দাম বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৬,৫৯০ টাকা বেড়ে গেছে। ১২ মার্চের পর থেকে সামগ্রিকভাবে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে ২৮,৯৮৫ টাকা।
বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয় খোঁজ—all মিলিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ৭০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছিল।
গত জানুয়ারিতে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫,৬০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল, যার প্রভাবে দেশের বাজারে ২৯ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। কিন্তু ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার প্রভাবে সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে।
বাজুস জানিয়েছে, আজ বিকেল ৩:৪৫ মিনিট থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে এবং ক্রেতাদের জন্য ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণের দামকে আরও প্রভাবিত করবে।
