২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে ইরান, বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডকে একই গ্রুপে রাখা হয়েছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোপহি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইরানের সঙ্গে। উভয় দলের জন্য এটি বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ। নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইরানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতেও তারা কোনও আপত্তি দেখাবে না।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়। এর ফলে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। ইরান ফুটবল ফেডারেশন আগে ঘোষণা করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রে খেলার পরিবর্তে মেক্সিকোতে তাদের ম্যাচ আয়োজনের বিষয় ফিফার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, ফিফা এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে না। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফা এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ স্পষ্ট করেছেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বয়কট করব, কিন্তু বিশ্বকাপকে নয়।” অর্থাৎ, ইরান বিশ্বকাপে খেলতে চায়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ আয়োজন চায় না। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে খেললে ইরান দলের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পরে তিনি পরিস্কার করেন, সম্ভাব্য কোনো হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসবে না। তাজ ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে জোর দিয়েছেন।
ইরান প্রস্তুতি থামায়নি। তারা তুরস্কে অনুশীলন ক্যাম্প করছে এবং দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। নিউজিল্যান্ডও লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে খেলোয়াড়রা বলেছেন, প্রয়োজনে ভেন্যু পরিবর্তন হলেও তাদের কোনো আপত্তি নেই। মিডফিল্ডার রায়ান টমাস বলেন, “ইরান গ্রুপের বাছাইপর্ব পার হয়ে এসেছে। আমাদের যদি মেক্সিকো বা কানাডায় গিয়ে খেলতে হয়, তাতেও সমস্যা নেই।”
২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। নিউজিল্যান্ডের মূল ‘বেস ক্যাম্প’ হবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম জানিয়েছে, ইরানের ম্যাচ আয়োজনের জন্য দেশটি প্রস্তুত, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ফিফার এখতিয়ারে।
নিউজিল্যান্ড উইঙ্গার কোস্তা বারবারুসেস জানিয়েছেন, ভেন্যু পরিবর্তনের দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। তিনি মনে করেন, কোনো পরিবর্তন তাদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, “আমাদের একটি প্রাক-ম্যাচ ক্যাম্প থাকবে। তাই ভেন্যু বদলালে কোনো সমস্যা হবে না।”
ফিফা ইরানের ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি, তবে তারা ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং আশা করছে বর্তমান সূচি অনুযায়ী সব দল মাঠে নামবে।
নিচের টেবিলে গ্রুপ ‘জি’ এর সূচি দেওয়া হলো:
| তারিখ | দল ১ | দল ২ | ভেন্যু | শহর |
|---|---|---|---|---|
| ১৫ জুন | নিউজিল্যান্ড | ইরান | সোপহি স্টেডিয়াম | লস অ্যাঞ্জেলেস |
| ২১ জুন | ইরান | বেলজিয়াম | সোপহি স্টেডিয়াম | লস অ্যাঞ্জেলেস |
| ২৬ জুন | ইরান | মিসর | লুমেন ফিল্ড | সিয়াটল |
নিউজিল্যান্ড ফরোয়ার্ড বারবারুসেস জানিয়েছেন, লস অ্যাঞ্জেলেসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজক কর্তৃপক্ষের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন। তিনি বলেন, “মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক, তবে আমি চাই আমার পরিবার গ্যালারিতে থাকুক। তারা নিরাপদ থাকবে এবং বিশ্বকাপের এই সুযোগ হাতছাড়া করবে না।”
এই পরিস্থিতি বিশ্বকাপে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে খেলোয়াড়রা কেবল মাঠের লড়াই নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তার প্রেক্ষাপট নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
