ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্র একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় হিমশিম খাচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, নিম্ন উচ্চতার হুমকি মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের বিনিয়োগের ঘাটতি এবং প্রণালীর সীমাবদ্ধতা মূল সমস্যা। সম্প্রতি ‘মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট’-এর আয়োজিত ভার্চুয়াল প্যানেল আলোচনায় এ বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের ‘রিইম্যাজিনিং ইউএস গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি’ প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো বলেন, “উচ্চ আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পেরেছে। কিন্তু নিচু উচ্চতায়—যেখানে ড্রোন ও হাইলি মোবাইল সিস্টেম ব্যবহার করা হয়—তারা সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ হচ্ছে। ইরান সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আকাশ আধিপত্য রুখছে।”
গ্রিকোর মতে, ইরান ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পরিবর্তে ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধ’ বা ওয়ার অব ডিসরাপশন চালাচ্ছে। শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য বিপুল ক্ষতি ও জটিলতা সৃষ্টি করছে। এই ড্রোনগুলো নির্মাণে কম খরচ হলেও, এগুলো প্রতিরোধ করতে লাখ লাখ ডলার ব্যয় হচ্ছে।
আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির তুলনামূলক তথ্য
| দেশ/প্রযুক্তি | ব্যবহৃত ব্যবস্থা | লক্ষ্য | সীমাবদ্ধতা | খরচের ধরন |
|---|---|---|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্র | প্যাট্রিয়ট, থাড | উচ্চ ও মধ্য উচ্চতা | নিচু উচ্চতা ড্রোন শনাক্ত করা কঠিন | উচ্চ |
| রাশিয়া | এস-৩০০ | উচ্চতা ও মধ্য উচ্চতা | প্যাট্রিয়টের সঙ্গে সংযুক্ত নয় | উচ্চ |
| উপসাগরীয় দেশসমূহ | ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধক | মধ্য ও নিম্ন উচ্চতা | ইন্টারসেপ্টরের সীমিত মজুদ | মাঝারি-উচ্চ |
| ইরান | শাহেদ ড্রোন, মোবাইল সিস্টেম | নিম্ন উচ্চতা | সীমিত ধ্বংস ক্ষমতা, কিন্তু পুনরায় ব্যবহারযোগ্য | কম |
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু নিচু উচ্চতায় ড্রোন প্রতিরোধে আলাদা ধরনের সেন্সর ও রাডারের প্রয়োজন। ফলে তাদের বিদ্যমান সিস্টেমে সুনির্দিষ্ট প্রতিরোধ সীমিত হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি যদিও ভিন্ন। তিনি বলেছেন, “আমরা এখন তেহরানের আকাশে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি।” তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের কৌশল দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল। প্রতিদিনের ক্রমাগত ড্রোন হামলা ও ধীরে ধীরে খরচ বৃদ্ধি করাই তাদের মূল শক্তি।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মাইকেল ও’হ্যানলন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ পুনঃস্থাপন করতে প্রায় ৭,৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন। তিনি লেজার প্রযুক্তির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যা ড্রোন মোকাবিলায় কার্যকর হতে পারে, তবে মেঘ ও জলীয় বাষ্পে সীমাবদ্ধ।
কেলি গ্রিকো এবং মাইকেল ও’হ্যানলনের বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট, ইরানের ছোট খরচে পরিচালিত ড্রোন যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমূল্যের প্রতিরোধ ব্যবস্থা অকার্যকর করে তুলেছে। ফলে, এই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস এবং নিম্ন উচ্চতা ড্রোন মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন।
যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর ও হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন ব্যাখ্যা থাকলেও, আকাশ আধিপত্য অর্জনের ক্ষেত্রে ইরানের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল স্পষ্ট প্রতিফলিত হচ্ছে।
