রাজবাড়ীতে কর সংস্কারে নতুন উদ্যোগ ঘোষণা

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের আয়োজিত ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর কর পরিহার, কর জালিয়াতি ও অপচয় বন্ধের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ফ্যাসিবাদী আমলে বাংলাদেশের কর-জিডিপি হার দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্বে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, “ঋণের ভারে দেশ বর্তমানে ন্যুব্জ, তবে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধি করে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু থাকবে এবং উন্নয়ন ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে।”

তিনি আরও জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) তিনটি মূল খাত—আয়কর, শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর—এর জন্য পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সগুলো অপচয়, কর জালিয়াতি ও কর পরিহারের সংস্কৃতি দূর করার কাজ শুরু করেছে। আগামী বাজেটে ২০৩৪ সালের মধ্যে কর-জিডিপি হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ, জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী।

করসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের কাঠামো

খাতগঠিত টাস্কফোর্সউদ্দেশ্যবর্তমান কার্যক্রম
আয়কর বিভাগ১ম টাস্কফোর্সকর জালিয়াতি শনাক্ত ও হ্রাসরেকর্ড যাচাই, অনলাইন মনিটরিং শুরু
শুল্ক বিভাগ২য় টাস্কফোর্সআমদানি-রপ্তানি কর হারমোনাইজেশনসীমান্ত চেকপোস্টে অডিট বৃদ্ধি
মূল্য সংযোজন কর৩য় টাস্কফোর্সভ্যাট ফাঁকি ও অপচয় রোধব্যবসায়িক রেকর্ড যাচাই, ডিজিটাল রিপোর্টিং

উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর নিশ্চিত করেছেন, সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে করসংগ্রহ বাড়ানো, ঋণ কমানো এবং সামাজিক ও উন্নয়নমূলক ব্যয় বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

তিনি সর্বশেষে জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন যে, কর-জিডিপি হার বৃদ্ধি এবং টাস্কফোর্স কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার ন্যায়পরায়ণ ও স্বচ্ছ নীতি চালু রাখবে।