ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ জেলার আন্দউড়া এলাকায় রবিবার (২২ মার্চ) সকালে একটি ভয়ঙ্কর পথ দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি; তবে সকালে কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়ে রাস্তার পাশে ভাসমান আসবাবপত্র ও গাড়ির ভাঙা কাচ দেখে তারা সন্দেহজনক কিছু লক্ষ্য করেন। পরে পানির মধ্যে ডুবে থাকা একটি পিকআপ ভ্যানের লাশ দেখতে পান এবং দ্রুত শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানাকে অবহিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৮টার দিকে তারা রাস্তার পাশে ভাসমান সামগ্রী দেখে পিকআপ ভ্যানটি পানিতে পড়েছে এমন ধারণা করেন। আশপাশের লোকজন একত্রিত হয়ে গাড়ি থেকে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন এক ৩২ বছর বয়সী নারী, একটি ১১ বছর বয়সী শিশু, এবং দুইজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ।
প্রত্যক্ষদর্শী শাহীন খন্দকার জানান, দুর্ঘটনার স্থান থেকে একটি অজ্ঞাত বাসের সামনের কাচ ও যাত্রীদের টিকিটের কপি পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “সম্ভবত অজ্ঞাত ওই বাসটি পেছন থেকে পিকআপ ভ্যানটিকে ধাক্কা দিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার কারণ হয়েছে।” এ ধরনের সংঘর্ষে পিকআপটি খাদে পড়ে যায় এবং তাতে থাকা চারজন যাত্রী মারা যান।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশগুলো উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠায়। পরে পানির নিচ থেকে পিকআপ ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান জানান, “নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত করছে।”
দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্য
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | আন্দউড়া, হবিগঞ্জ জেলা |
| তারিখ ও সময় | ২২ মার্চ, রবিবার, সকাল ৮টা |
| মৃতের সংখ্যা | ৪ জন |
| মৃতের বয়স ও লিঙ্গ | নারী: ~৩২, শিশু: ১১, পুরুষ: ২ জন (প্রাপ্তবয়স্ক) |
| সম্ভাব্য কারণ | অজ্ঞাত বাসের ধাক্কা, পিকআপ খাদে পড়ে |
| উদ্ধারকারী | স্থানীয়রা, শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ |
| গাড়ির ধরন | পিকআপ ভ্যান |
| অন্যান্য প্রমাণ | বাসের সামনের কাচ, যাত্রীর টিকিট কপি |
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার ফলে পিকআপ খাদে পড়ে এবং চারজনের মৃত্যু ঘটে। পুলিশ নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পর পরিবারকে জানাবে এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করবে।
দুর্ঘটনাটি দেশের সড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের ঝুঁকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা আবারও তুলে ধরেছে। বিশেষত মহাসড়কের এমন সংকীর্ণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে যানবাহনের দ্রুতগতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
