ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক কিশোরকে টর্চের আলো চোখে পড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম মোসাব্বির হোসেন (১৭)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা ঘটেছে শনিবার রাতে, ঈদের সময়, বড়নগর গ্রামে।
মোসাব্বির হোসেন নাসিরনগর উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়শির গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, সে বাবার নৌকা চালানোর কাজে সহায়তা করত। ঘটনার সময় সে বন্ধুদের সঙ্গে গান শোনার জন্য সময় কাটাচ্ছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নাসিরনগরের চাতলপাড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গুজিয়াখাইল গ্রামের সরদার বাড়ি গোষ্ঠী এবং বড়নগর গ্রামের আফতাব মিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাবশালী সম্পর্ক রয়েছে। দুই গোষ্ঠীর কিশোরদের মধ্যে টর্চের আলোকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বিরোধের সূত্রপাত হয়। বিরোধের সময় মোসাব্বিরকে ছুরিকাঘাত ও কোপের মাধ্যমে গুরুতর আহত করে মেঘনা নদীর পাড়ে ফেলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
চাতলপাড় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদের রাতে মোসাব্বির ও তার বন্ধুরা গান শুনছিল। টর্চের আলো অন্য কিশোরদের চোখে পড়লে কথাকাটাকাটির সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত ও কোপের ঘটনায় মোসাব্বির নিহত হয়।”
নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কৃষ্ণ লাল ঘোষ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ তৎপর।
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| এলাকা | নিহতের নাম | বয়স | গোষ্ঠী সম্পর্ক | ঘটনার সময় | উদ্ধার ও হাসপাতালে নেওয়া |
|---|---|---|---|---|---|
| বড়নগর, নাসিরনগর | মোসাব্বির হোসেন | ১৭ | আফতাব মিয়া গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধী | ঈদের রাত | রাত ১০:৩০ মিনিটে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন |
| গুজিয়াখাইল, চাতলপাড় | — | — | সরদার বাড়ি | — | — |
ঘটনার পর পুরো এলাকা শোকস্তব্ধ। স্থানীয়রা ও পুলিশ নিহতের পরিবারকে মানসিক সহায়তা দিচ্ছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় সমাজে কিশোরদের মধ্যে সহিংসতা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে।
