খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই মার্চ ২০২৬, ৩:৪৬ পিএম

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি লন্ডনগামী ফ্লাইটে যাত্রীরা অভিজ্ঞ হয়েছেন এক অদ্ভুত ও মর্মস্পর্শী পরিস্থিতির। ১৫ মার্চ হংকং থেকে লন্ডন যাওয়ার পথে, উড়োজাহাজে প্রায় এক ঘণ্টা উড্ডয়নের পর ৬০ বছরের এক নারী যাত্রী মারা যান। এরপর পুরো ১৩ ঘণ্টা প্রায় মৃতদেহের সঙ্গে একই বিমানে থাকা যাত্রীদের মানসিক ও শারীরিকভাবে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
Table of Contents
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একজন মুখপাত্র জানান, “দুঃখজনকভাবে একজন যাত্রী বিমানে মারা গেছেন। আমরা তার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। ক্রুদের যথাযথ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং সমস্ত নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়েছে।”
যাত্রীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, মৃতদেহের সঙ্গে দীর্ঘ সময় থাকা মানসিকভাবে কষ্টকর ছিল। তবে ক্রু ও পরিবার উভয়ই পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করেননি।
উড়োজাহাজের ডেকে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব ওঠে। প্রথমে এটি টয়লেটে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে লাশটি বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে মুড়ে বিমানের পেছনের গ্যালিতে রাখা হয়। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্যালির মেঝে গরম থাকায় দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা ফ্লাইটের শেষ দিকে যাত্রীদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়।
বিমান অবশেষে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পুলিশ তদন্তের জন্য বিমানে ওঠে এবং যাত্রীদের ৪৫ মিনিট ধরে আসনে বসিয়ে রাখা হয়। এরপর মরণোত্তর প্রক্রিয়ার জন্য একটি বিশেষ দল উপস্থিত হয়।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ফ্লাইট | হংকং–লন্ডন, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ |
| মৃতযাত্রীর বয়স | ৬০ বছর |
| ঘটনার স্থান | উড়োজাহাজের পেছনের গ্যালি |
| সময়কাল | ১৩ ঘণ্টা বিমানে মৃতদেহের সঙ্গে |
| অবতরণ | হিথ্রো বিমানবন্দর, লন্ডন |
| পরবর্তী ব্যবস্থা | মরণোত্তর পরিচর্যা ও পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় |
হিথ্রো বিমানবন্দরের মর্চুয়ারিয়াম শিপোলের সমন্বয়কারী বেন ভস জানান, “একটি বিশেষ গাড়ি সরাসরি বিমানের কাছে আসে। যাত্রী ও ক্রু সরাসরি গাড়িতে যেতে পারেন। এরপর ছোট দল কঠোর নিয়ম মেনে মৃতদেহকে শেষকৃত্য সংস্থায় প্রেরণের প্রস্তুতি নেয়। এতে চিকিৎসা সংস্থা, অঙ্গ দান সংস্থা এবং পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।”
যাত্রীদের জন্য ১৩ ঘণ্টা মৃতদেহের সান্নিধ্য একটি মানসিক চ্যালেঞ্জ ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রুরা প্রাথমিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন, তবে দীর্ঘসময় যাত্রীদের মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য রক্ষা করা চ্যালেঞ্জ ছিল।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে বিমানযাত্রায় অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। নিরাপদ ও মানবিকভাবে মৃতদেহ সংরক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের মানসিক সহায়তার গুরুত্বও অপরিসীম।
মন্তব্য