ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক HDFC ব্যাংক সম্প্রতি তিনজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে। এ সিদ্ধান্ত আসে সংস্থার দুবাই আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার (DIFC) শাখায় ক্লায়েন্ট অনবোর্ডিং প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ত্রুটির অভিযোগের পর। এই ঘটনা HDFC ব্যাংকের চেয়ারম্যান আতনু চক্রবর্তী কর্তৃক নৈতিক কারণে পদত্যাগের ঠিক কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটে।
সূত্রের মতে, বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা ক্রেডিট সুইসের অতিরিক্ত টিয়ার-১ (AT-1) বন্ডের মিস-সেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাদের পদচ্যুত করা হয়েছে। এ ঘটনার পর, স্থানীয় নিয়ন্ত্রক দুবাই ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অথরিটি (DFSA) ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে DIFC শাখায় নতুন গ্রাহক অনবোর্ডিং সীমিত করে।
HDFC ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমরা DIFC শাখায় ক্লায়েন্ট অনবোর্ডিং প্রক্রিয়ার কিছু ফাঁক সনাক্ত করেছি এবং বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছি। অভ্যন্তরীণ নীতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমাধানমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের পরিবর্তন করা হয়েছে।” ব্যাংকটি আরও জানিয়েছে যে, সংস্থার শাসন কাঠামো দৃঢ় এবং তারা সর্বোচ্চ মানের নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক প্রতিপালনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আতনু চক্রবর্তীর পদত্যাগ
চক্রবর্তী ২০২১ সালের ৫ মে HDFC ব্যাংক-এর পার্ট-টাইম চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০২৪ সালে তার মেয়াদ তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৪ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। তিনি ১৯৮৫ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা, গুজরাট কেডারের, এবং ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে অর্থ বিষয়ক দপ্তরের সচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি বিনিয়োগ ও পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সচিব ছিলেন।
চক্রবর্তীর পদত্যাগের পেছনে ব্যক্তিগত নৈতিকতার সঙ্গে ব্যাংকের কিছু অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডের অসঙ্গতি মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পদত্যাগ পত্রে লেখা রয়েছে, “গত দুই বছরে আমি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কিছু ঘটনাবলী এবং প্রথা লক্ষ্য করেছি যা আমার ব্যক্তিগত মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্য কোনো কারণ নেই।”
DIFC শাখার অনবোর্ডিং ত্রুটি ও ব্যাংকের প্রতিক্রিয়া
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| শাখা | দুবাই আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার (DIFC) |
| কর্মকর্তাদের সংখ্যা | ৩ জন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ |
| অভিযোগ | ক্রেডিট সুইস AT-1 বন্ডের মিস-সেলিং, ক্লায়েন্ট অনবোর্ডিংয়ে ফাঁক |
| নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ | নতুন গ্রাহক অনবোর্ডিং সীমিত করা (DFSA, ২০২৫ সেপ্টেম্বর) |
| ব্যাংকের ব্যবস্থা | অভ্যন্তরীণ নীতি অনুযায়ী কর্মকর্তাদের পরিবর্তন ও সমাধানমূলক পদক্ষেপ |
HDFC ব্যাংক এবং HDFC লিমিটেডের একীভূতকরণ
চক্রবর্তীর চেয়ারম্যান থাকার সময় HDFC ব্যাংক তার মূল সংস্থা HDFC লিমিটেড-এর সঙ্গে বিপরীত একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় ছিল। এই একীভূতকরণ ১ জুলাই ২০২৩-এ কার্যকর হয় এবং এতে ব্যাংক ও মর্গেজ সংস্থার সম্মিলিত ব্যালেন্স শিট ১৮ লাখ কোটি রূপির বেশি হয়, যা ভারতীয় আর্থিক ক্ষেত্রের একটি বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করায়।
এই ঘটনার মাধ্যমে HDFC ব্যাংক-এর অভ্যন্তরীণ শাসন কাঠামো, নৈতিক মূল্যবোধ এবং নিয়ন্ত্রক মানদণ্ডের প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনঃনিশ্চিত হয়েছে। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বরখাস্ত ও চক্রবর্তীর পদত্যাগ একসাথে ব্যাংকের কার্যক্রম ও পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
