ঈদযাত্রায় সেতুতে টোল আদায়ের রেকর্ড

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক যাতায়াতের ফলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি সেতু—পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু—পারাপার এবং টোল আদায়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত তদারকির কারণে এ বছর ঈদযাত্রা ছিল তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন।

চলতি বছরের ১৭ থেকে ১৯ মার্চ—এই তিন দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ১ লাখ ৯ হাজার ২৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৮০২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে যানবাহন চলাচলে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। তবে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও টোল আদায়ে সামান্য ওঠানামা দেখা গেছে। এ সময় পদ্মা সেতু থেকে মোট টোল আদায় হয়েছে ১২ কোটি ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যেখানে ২০২৫ সালে একই সময়ে আদায় হয়েছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।

অন্যদিকে যমুনা সেতুতেও এক দিনের হিসেবে সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপারের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ এক দিনে ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন সেতুটি অতিক্রম করে, যা ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৩৬৮টি যানবাহনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একইভাবে টোল আদায়েও নতুন উচ্চতা ছোঁয়া গেছে। এদিন যমুনা সেতু থেকে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা আদায় হয়েছে, যা আগের বছরের ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকার রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

নিচের সারণিতে দুই সেতুর গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—

সূচক২০২৬২০২৫
পদ্মা সেতুতে যানবাহন (৩ দিনে)১,০৯,০২৫১,০০,৮০২
পদ্মা সেতুতে টোল (৩ দিনে)১২,০৫,৮৮,০০০ টাকা১২,০০,৭৮,৪০০ টাকা
যমুনা সেতুতে এক দিনে যানবাহন৫১,৩৮৪৪৮,৩৬৮
যমুনা সেতুতে এক দিনে টোল৩,৫১,৮২,৬০০ টাকা৩,৪৬,২৭,৮৫০ টাকা

সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর যানবাহনের চাপ গত বছরের তুলনায় বেশি হলেও বড় কোনো দুর্ঘটনা বা দীর্ঘস্থায়ী যানজটের ঘটনা ঘটেনি। বিশেষ করে টোল প্লাজায় ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ ব্যবস্থা, অতিরিক্ত লেন চালু, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা যাত্রীদের যাত্রাকে সহজ করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সেতুগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধিতে। একই সঙ্গে দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে এই বাড়তি চাপ সামাল দিয়ে রেকর্ড গড়া সম্ভব হয়েছে।

সার্বিকভাবে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পদ্মা ও যমুনা সেতুর এই সাফল্য দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সক্ষমতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।