ফাইনালে হাফটাইমে তারকা মহোৎসব

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়, যেখানে খেলাধুলার সবচেয়ে বড় আসরের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বিশ্বমানের সংগীত তারকারা। ফিফা ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হবে সুপার বোল ধাঁচের বিশাল হাফটাইম শো। এই বিশেষ মঞ্চে একসঙ্গে পারফর্ম করবেন পপসংগীতের তিন বিশ্বনন্দিত তারকা—ম্যাডোনা, শাকিরা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএস।

গত বুধবার রাতে প্রকাশিত ফিফার আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এই চমকপ্রদ আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। একটি বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ঘোষণা দেওয়া হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লের প্রধান কণ্ঠশিল্পী ক্রিস মার্টিন এবং শিশুদের জনপ্রিয় চরিত্র এলমো। পাশাপাশি দেখা যায় মাপেটস দলের আরও কয়েকটি পরিচিত চরিত্রকেও, যা পুরো ঘোষণাকে আরও রঙিন করে তোলে।

ভিডিওতে মজার ছলে দেখানো হয়, ক্রিস মার্টিন ও এলমো একসঙ্গে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম হাফটাইম শোর জন্য শিল্পী নির্বাচন করছেন। দীর্ঘ আলোচনার পর তারা সিদ্ধান্ত নেন ম্যাডোনা, শাকিরা ও বিটিএসকে এক মঞ্চে আনার। ঘোষণার পরপরই বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া।

ফিফা জানিয়েছে, এই আয়োজন শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি বৃহৎ মানবিক উদ্যোগ। এই হাফটাইম শো থেকে অর্জিত অর্থ ব্যয় করা হবে শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবল প্রশিক্ষণ বিস্তারের লক্ষ্যে পরিচালিত একটি বৈশ্বিক কর্মসূচিতে। ফিফার লক্ষ্য এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপ ফাইনাল সাধারণত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শকপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজনগুলোর একটি। তুলনামূলকভাবে সুপার বোলের দর্শকসংখ্যা কম হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় ক্রীড়া অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়। নিচের সারণিতে সাম্প্রতিক দর্শকসংখ্যার তুলনা তুলে ধরা হলো—

আয়োজনবছরআনুমানিক দর্শকসংখ্যা
বিশ্বকাপ ফাইনাল২০২২৫০ কোটির বেশি
সুপার বোল২০২৫প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ

ফিফা এর আগে সীমিত পরিসরে হাফটাইম বিনোদনের পরীক্ষা চালিয়েছিল। ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো হাফটাইমে সংগীত পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশ নেন ডোজা ক্যাট, টেমস এবং জে বালভিন। সেই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ক্রিস মার্টিনও, যিনি শিল্পী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই সফল অভিজ্ঞতাই এবার বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বৃহৎ মঞ্চে আরও বিস্তৃত আয়োজনের পথ খুলে দিয়েছে।

শাকিরার সঙ্গে বিশ্বকাপের সম্পর্ক আগে থেকেই গভীর। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে তাঁর পরিবেশিত ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং ফুটবল সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ম্যাডোনা পপসংগীতের ইতিহাসে এক অনন্য নাম, যার দীর্ঘ ক্যারিয়ার বিশ্বব্যাপী কোটি ভক্তকে প্রভাবিত করেছে। বিটিএস বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগীতদলগুলোর একটি হিসেবে বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ফলে এই তিন তারকার এক মঞ্চে উপস্থিতি বিশ্বব্যাপী নজিরবিহীন সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৯৪ সালের পর এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ২০২৬ আসরের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে ১১ জুন থেকে, আর ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে এই নতুন ধরনের বিনোদন আয়োজন বিশ্বকাপ ইতিহাসে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে।