হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল লঘুতম ৯৫ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘর্ষের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি তীব্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। যেখানে আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩৮টি জাহাজ যাতায়াত করত, এখন তা মাত্র ৫–৬টিতে সীমিত হয়ে এসেছে।

বিবিসি ভেরিফাই-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসে এই সংকীর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে মাত্র ৯৯টি জাহাজ। ‘জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার’ জানাচ্ছে, বিশ্বের মোট তেলের সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে হচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে তেলের রপ্তানি ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কিছু জাহাজ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল অব্যাহত রাখছে।

শিপিং অ্যানালিস্ট কেপলার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যারা ঝুঁকি নিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ইরান ও তার মিত্র রাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ২০ দিনে হরমুজ অতিক্রম করা জাহাজের এক-তৃতীয়াংশ ইরানের। এর মধ্যে ইরানের পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা ছিল ১৪টি। তেল-বাণিজ্যের কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা কিছু জাহাজও এই সময়ে প্রণালি অতিক্রম করেছে।

জাহাজের ধরণসংখ্যালক্ষ্যবস্তু/দেশ
ইরানের পতাকাবাহী14ইরান
চীনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন9বিভিন্ন গন্তব্য
ভারতীয় গন্তব্য6ভারত
অন্যান্য (গ্রিক ও পশ্চিমা মালিকানাধীন)10+ইরানি বন্দর নোঙর

নাবিকরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়াতে প্রথাগত রুট পরিবর্তন করে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করছেন। উদাহরণস্বরূপ, ১৫ মার্চ পাকিস্তানের পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাঙ্কার ইরান উপকূলের কাছাকাছি সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত করেছে, মূলত হামলা ও রাডার নজর এড়াতে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের এই পরিমাণ হ্রাস ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাব সাধারণ নিত্যপণ্যের দামে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, “হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে। পাশাপাশি প্রতিটি দেশকে বিকল্প রুট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।”

সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক চলাচল এখন প্রায় শূন্যের ঘরে, যা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।