পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের পাড়া-মহল্লা ও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গরু ও মহিষের মাংস বিক্রি তুঙ্গে পৌঁছেছে। তবে ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ ও দিনমজুরদের পক্ষে এই মাংস কেনা প্রায় অসম্ভব। ফলে পরিবারের শিশুসহ সবার মুখে ঈদের আনন্দমুখর মাংস তুলে দেওয়া অনেকের জন্য কেবল স্বপ্নে সীমাবদ্ধ থাকছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কেজিপ্রতি গরুর মাংসের দাম এলাকায় এলাকায় ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত। মহিষের মাংসের দাম কিছুটা বেশি, কেজিপ্রতি ৮৫০ থেকে ৮৭০ টাকা। অনেক দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এ দাম সহজলভ্য নয়। তাঁরা জানান, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে চাল-ডাল কেনাও কঠিন হয়ে গেছে, সেখানে গরুর মাংস কেনা কেবল দূরের স্বপ্ন। অনেকের জন্য ব্রয়লার মুরগি পর্যন্ত নিয়মিত ক্রয় করা সম্ভব হয় না।
দিনমজুর সমুজ মিয়া বলেন, “গত কোরবানির ঈদে আমি গরুর মাংস খেতে পেরেছিলাম, এরপর প্রায় ১০ মাস ধরে খাওয়া হয়নি। বাজারে ১ কেজি মাংসের দাম ৮০০ টাকা। আমি দিনে চার-পাঁচ শত টাকা আয় করি। সেই আয় দিয়ে বাড়ির খরচ চালানোই কঠিন, গরুর মাংস তো অনেক বড় বিষয়।”
শ্রমজীবী রফিক মিয়া যোগ করেন, “প্রতিবছর কোরবানির ঈদে মাংস খাওয়ার সুযোগ হয়, তবে বছরের বাকি সময়ে আমাদের মতো অনেক মানুষের পাতে মাংস ওঠে না।”
মৌলভীবাজারের মাংস ব্যবসায়ী বেলায়ত মিয়া বলেন, “আমাদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী মাংস বিক্রি হয়। তবে দাম বেড়েছে। কয়েক বছর আগে যাদের কাছে ১০-২০ কেজি বিক্রি হতো, এখন তারা মাত্র ২-৩ কেজি কিনছেন। মধ্যবিত্ত কিছুটা বেশি কিনলেও নিম্ন আয়ের মানুষ সীমিত পরিমাণে কিনে থাকেন।”
নিম্নে কয়েকটি উপজেলার বাজারে ঈদকে সামনে রেখে গরুর মাংসের কেজি প্রতি দাম সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| উপজেলা/বাজার | গরুর মাংস (টাকা/কেজি) | মহিষের মাংস (টাকা/কেজি) |
|---|---|---|
| মৌলভীবাজার সদর | ৮০০ | ৮৫০ |
| শ্রীমঙ্গল | ৮৫০ | ৮৭০ |
| কমলগঞ্জ | ৮০০ | ৮২০ |
| জুড়ী | ৮২০ | ৮৫০ |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরবরাহ কমে যাওয়া, খরচ বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব গরুর মাংসের দামের এই উর্ধ্বগতি বাড়াচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ঈদে মাংসের উপস্থিতি সীমিত হওয়ায় সামাজিক ও মানসিক প্রভাবও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মৌলভীবাজারে সাধারণ মানুষের জন্য এ ঈদে গরুর মাংস কিনা কেবল সৌভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে এটি এখনও চ্যালেঞ্জের বিষয়।
