পাবনার বেড়া উপজেলার বড়শিলা গ্রামে শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে এক রিকশাচালক ফজলু রহমান (৫৫)-এর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ধানক্ষেতে তার গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যাওয়ায় স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং হত্যার কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত ফজলু রহমান বেড়া পৌরসভার হাতিগাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আ. মান্নানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যু তার পরিবার ও প্রতিবেশীদের গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
স্থানীয়রা জানায়, সকালে কৃষিকাজে বের হওয়া কয়েকজন ব্যক্তি বড়শিলা গ্রামের একটি ধানক্ষেতে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান। কাছে গিয়ে তারা নিশ্চিত হন যে এটি ফজলু রহমান। মরদেহের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। তবে ঘটনার পাশে তার ব্যবহৃত রিকশাটি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, এটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্য নয়।
বেড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশ আশপাশের এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছে।
বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফজলু রহমানকে কৌশলে ডেকে নিয়ে রাতের কোনো এক সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
এ ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, রহস্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | ফজলু রহমান (৫৫) |
| পেশা | রিকশাচালক |
| বাসস্থান | হাতিগাড়া গ্রাম, বেড়া পৌরসভা |
| উদ্ধার স্থান | বড়শিলা গ্রামের ধানক্ষেত |
| উদ্ধার সময় | শুক্রবার সকাল (২০ মার্চ) |
| প্রাথমিক ধারণা | গলা কেটে হত্যা |
| তদন্তের অবস্থা | চলমান |
পাবনার বেড়া উপজেলায় এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানাচ্ছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
