ইরানে এবারের নওরোজ এবং ঈদুল ফিতর উদযাপন প্রথাগত আনন্দ ও উৎসবের চেয়ে শোক ও সতর্কতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়েছে। যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান বিভীষিকায় পুরো দেশজুড়ে এক চাপা এবং নীরব পরিবেশ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ ঘরবন্দি থেকে দিনগুলো পার করছে, আর রাস্তাঘাট, বাজার এবং পাবলিক স্থানে স্বাভাবিক উৎসবের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।
নওরোজের প্রাক্কালে, যা ইরানিদের নববর্ষ উদযাপনের প্রধান দিন হিসেবে পরিচিত, মানুষ সাধারণত আগুন জ্বালিয়ে এবং রঙিন আলোকসজ্জার মাধ্যমে আনন্দ উদযাপন করে। তবে এ বছর রাজধানী তেহরানসহ দেশের বড় শহরগুলোতে সরকারি সতর্কবার্তার কারণে কেউ প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেনি। নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা সংঘাত সৃষ্টি না হয়।
রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিভাজনের প্রভাবও স্পষ্ট। বিরোধী গোষ্ঠী গত জানুয়ারির সহিংসতায় নিহত হাজার হাজার মানুষের স্মরণে শোক পালন করছে। অপরদিকে, সরকারি সমর্থকরা সাম্প্রতিক ২০ দিনের যুদ্ধে প্রাণ হারানো প্রায় ১,৫০০ নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মৃত্যুতে শোকাহত। এই দ্বৈত শোক ও আতঙ্কের আবহ পুরো দেশের মানুষের মনে একটি ভারাক্রান্ত মানসিক অবস্থা তৈরি করেছে।
উৎসবকালীন সময়ে তেহরানের তাজরীশ বাজারের মতো জনবহুল স্থানে নিহত শিশু ও নিরপরাধ মানুষের ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এসব দৃশ্য যুদ্ধের ভয়াবহতা বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করছে।
এবারের নওরোজ এবং ঈদ উদযাপনের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো সারণিতে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| উৎসবের পরিবেশ | ম্লান, শোকমগ্ন এবং সীমিত |
| জনসমাগম | সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত |
| নওরোজের উদযাপন | নগরীতে অনুপস্থিত প্রায় |
| সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহত | প্রায় ১,৫০০ জন |
| জানুয়ারির সহিংসতায় মৃত | হাজার হাজার |
| সাধারণ মানুষের অবস্থা | আতঙ্কিত, ঘরবন্দি ও সতর্ক |
সর্বমোট, এবারের নওরোজ ও ঈদ ইরানিদের জন্য আনন্দের নয়; বরং এটি শোক, মনোসংযম এবং অস্থিরতার মধ্যে অতিবাহিত হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে সীমিত আকারে প্রার্থনা, স্মরণ ও পারস্পরিক সমবেদনা ভাগাভাগি করছেন। দেশটি যুদ্ধে দগ্ধ হওয়ার কারণে উৎসবের রঙ, সঙ্গীত এবং আনন্দের চিরাচরিত চিত্রগুলো এবারের জন্য স্থায়ীভাবে ম্লান হয়ে গেছে।
