গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের চুনিয়াকান্দি গ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় দুই শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। ঘটনার সময় ছিল দুপুর সাড়ে ১২টা। নিহত শিশুরা হলো অনুরুদ্ধ চন্দ্র (৭) এবং অপূর্ব চন্দ্র (৪)। অনুরুদ্ধ চন্দ্র নসচন্দ্রের ছেলে, আর অপূর্ব চন্দ্র রবিন চন্দ্রের ছেলে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাদিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সানা মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মন্দির চত্বরে অনুরুদ্ধ ও অপূর্বসহ কয়েকজন শিশু খেলছিল। খেলার এক পর্যায়ে অনুরুদ্ধ ও অপূর্ব খাল থেকে পানি আনতে মন্দির সংলগ্ন খালে চলে যায়। অন্য শিশুরা খেলা শেষ করে বাড়ি ফিরে গেলে, দুই শিশুর পরিবারের সদস্যরা তাদের আর দেখতে পাননি। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা জানালেন, শিশুরা বোতল ভর্তি করতে খালে গিয়েছিল। পরিবার এবং স্থানীয়রা তড়িঘড়ি খালে নেমে শিশুদ্বয়কে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। খালটি সাধারণত শিশুদের খেলার জন্য ব্যবহার করা হতো না, তবে দুর্ঘটনার সময় কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ও সচেতনতার গুরুত্ব পুনরায়浮 ফুটে উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, খাল ও নদীর ধার বরাবর শিশুদের জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করা প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, মন্দির চত্বর এবং আশেপাশের এলাকায় পর্যবেক্ষণ এবং সতর্কতা বাড়ানো জরুরি।
নিচের টেবিলে দুর্ঘটনায় নিহত শিশুর বয়স ও পরিবারের তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| নাম | বয়স | পিতার নাম | গ্রাম/ইউনিয়ন | দুর্ঘটনার সময় |
|---|---|---|---|---|
| অনুরুদ্ধ চন্দ্র | ৭ | নসচন্দ্র | চুনিয়াকান্দি, বাদিয়াখালী | ১২:৩০ পিএম |
| অপূর্ব চন্দ্র | ৪ | রবিন চন্দ্র | চুনিয়াকান্দি, বাদিয়াখালী | ১২:৩০ পিএম |
স্থানীয়রা সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে খালের ধারে ও মন্দির চত্বরের আশেপাশে পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা বাড়ানো আবশ্যক। শিশুদের খেলার সময় পরিবারের তদারকিও আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
দুর্ঘটনার ফলে পুরো ইউনিয়ন শোকাহত। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে দুই পরিবারের প্রতি মানসিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। এই দুঃখজনক ঘটনায় সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্ব আরও প্রমাণিত হলো।
এই দুর্ঘটনা এলাকার মানুষের জন্য একটি জাগরণ হিসেবে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে শিশুরা নিরাপদে খেলতে পারে এবং এ ধরনের হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি আর না ঘটে।
