পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে পাকিস্তান প্রতিবেশী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারও তাদের সামরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, বুধবার রাত ১২টা থেকে আগামী সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত থাকবে। তিনি বলেন, “ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ” সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে পবিত্র রমজানের সমাপ্তি উপলক্ষে এই বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি পাকিস্তানের ভূখণ্ডে সীমান্ত অতিক্রম করে হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে, তাহলে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হবে এবং তা আরও তীব্র হবে।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ নিশ্চিত করেছেন, তারা একই সময়ের জন্য সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উভয় পক্ষের এই সাময়িক বিরতি কূটনৈতিক সমঝোতার একটি ইতিবাচক সংকেত।
গত সোমবার কাবুলের ওমিদ মাদকাসক্তি পুনর্বাসন হাসপাতালে বিমান হামলায় ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটে। আফগান তালেবান সরকারের তথ্যানুসারে, হামলায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছেন। এই হামলা তিন সপ্তাহ ধরে চলা সামরিক সংঘাতে সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নিহতদের স্মরণে বুধবার গণজানাজার আয়োজন করা হয়।
পাকিস্তান এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো। পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, সীমান্ত পার হয়ে কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী প্রায়ই দেশের অভ্যন্তরে হামলা চালায় এবং কাবুলের তালেবান সরকার এসব গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে।
পূর্বে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও গত মাসে পরিস্থিতি পুনরায় খারাপ হয়ে আসে, যখন পাকিস্তান সরাসরি আফগান তালেবানকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান শুরু করে। একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্ক বর্তমানে বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
নিম্নে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সামরিক অভিযান স্থগিতকাল | ৫ দিন |
| স্থগিতকাল শুরু | বুধবার রাত ১২টা |
| স্থগিতকাল শেষ | সোমবার রাত ১২টা |
| কাবুল হামলায় নিহত | ৪০০+ |
| আহতের সংখ্যা | ২৬৫ |
| লক্ষ্যবস্তু | সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতি উভয় দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ হতে পারে, যা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর নির্ভর করবে।
