রাজধানীর ব্যস্ত নৌকেন্দ্র সদরঘাট এলাকায় বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনায় দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, নদীর মাঝামাঝি স্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চ হঠাৎ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় লঞ্চের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে ছিটকে পানিতে পড়ে যান। কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও অনেকে পানির স্রোতে ভেসে যান।
উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে ডুবুরি দল, স্পিডবোট এবং আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা সম্ভাব্য সব স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছি। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজদের কেউ কেউ লঞ্চের ভেতরে আটকা পড়তে পারেন।”
দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজন যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সামান্য আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন করতে সাময়িকভাবে সদরঘাটে লঞ্চ চলাচল সীমিত করা হয়, যা যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি, নৌপথে শৃঙ্খলার অভাব এবং চালকদের অসতর্কতা এ দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সদরঘাটের মতো অতিরিক্ত ব্যস্ত নৌপথে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনিবার্য হয়ে ওঠে।
নিম্নে দুর্ঘটনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা তারিখ ও সময় | ১৮ মার্চ, বিকেল ৫:৩০ |
| স্থান | সদরঘাট, ঢাকা |
| নিহত | ২ জন |
| নিখোঁজ | ২ জন |
| আহত | কয়েকজন (প্রাথমিকভাবে চিকিৎসাধীন) |
| উদ্ধারকারী সংস্থা | ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ, ডুবুরি দল |
| সম্ভাব্য কারণ | অতিরিক্ত গতি, নিয়ন্ত্রণহীনতা, নৌপথে বিশৃঙ্খলা |
সরকার নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং দায় নির্ধারণ করবে।
এই দুর্ঘটনা আবারও রাজধানীর নৌপথে নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অপ্রশিক্ষিত চালক এবং নিয়মিত তদারকির অভাব—এসব সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে। সচেতন নাগরিকরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
