খুলনার রূপসা উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় মাত্র ৪০০ টাকা পাওনা নিয়ে সংঘটিত এক মারাত্মক ঘটনা স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসনকে শোকস্তব্ধ করেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে ঘটনার শিকার হয়েছেন ৫২ বছর বয়সী চা-বিক্রেতা দ্বীন মোহাম্মদ ঢালী, যিনি স্থানীয় আবুল কাশেম ঢালীর ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ঘাটভোগ ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক ও পেশায় মাংস বিক্রেতা আবুল খায়ের লস্কর। দীর্ঘদিন ধরে দ্বীন মোহাম্মদের কাছ থেকে তিনি ৪০০ টাকা বকেয়া টাকা আদায় করতে চাইছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে সেই টাকা আদায়ের জন্য তিনি দ্বীন মোহাম্মদের দোকানে গেলে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা এবং ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিরোধের একপর্যায়ে আবুল খায়ের লস্কর একটি ইট নিয়ে দ্বীন মোহাম্মদের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে আসেন, কিন্তু অভিযুক্ত স্থান থেকে পালিয়ে যান। আহতকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবদুর রাজ্জাক মীর নিশ্চিত করেছেন, “বকেয়া টাকা সংক্রান্ত বিরোধের একপর্যায়ে মাথায় ইটের আঘাত পেয়ে চা-বিক্রেতা মারা গেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় শোক ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।”
পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, দ্বীন মোহাম্মদ ছিলেন শান্ত স্বভাবের, দিনের অধিকাংশ সময় চায়ের দোকান পরিচালনায় ব্যয় করতেন। এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় নিরাপত্তা শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের পদক্ষেপ ও অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
নিচে ঘটনার মূল বিষয়গুলো টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা | ৪০০ টাকার বকেয়া নিয়ে চা-বিক্রেতাকে ইট প্রহারে হত্যা |
| সময় ও তারিখ | মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল, ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা |
| স্থান | রূপসা উপজেলা, খুলনা জেলা |
| নিহতের নাম | দ্বীন মোহাম্মদ ঢালী, বয়স ৫২ |
| মৃতের পরিবার | আবুল কাশেম ঢালীর ছেলে |
| অভিযুক্ত | আবুল খায়ের লস্কর, কৃষক দলের আহ্বায়ক ও মাংস বিক্রেতা |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | ইট |
| আহত ও মৃত অবস্থান | প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মৃত ঘোষণা |
| পুলিশি ব্যবস্থা | অভিযুক্ত গ্রেপ্তারের অভিযান শুরু, থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন |
| স্থানীয় প্রতিক্রিয়া | শোক ও উত্তেজনা, নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও কঠোর ব্যবস্থা দাবি |
ঘটনাটি ছোট বকেয়া ও আর্থিক বিবাদের কারণে সংঘটিত হিংসাত্মক অপরাধের প্রতি সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অপরাধীকে দায়মুক্ত না রাখা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
