ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে যে পারস্য উপসাগরে তার নৌবাহিনী কার্যত কার্যক্রম চালাতে পারছে না এবং বর্তমানে যুদ্ধ শেষ করার উপায় খুঁজছে। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি জানিয়েছেন, চলমান সামরিক অভিযানে ব্যবহার হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বেশির ভাগ প্রায় এক দশক পুরনো। এর বাইরে আরও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে, যা এখনও কাজে লাগানো হয়নি।
নাঈনি বলেন, “২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নিস্ট’ লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩,৬০০টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই সামরিক অভিযানটির নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বর্তমান ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো পুরনো হলেও, রমজান পর্যন্ত তৈরি করা উন্নত অস্ত্র এখনও মজুত রয়েছে।
আইআরজিসি পারস্য উপসাগরে তাদের নিয়ন্ত্রণ দৃঢ়ভাবে প্রদর্শন করেছে। নাঈনি বলেছেন, “মার্কিন নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরে ঢোকার সাহস পাচ্ছে না। হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদি কেউ দাবি করে যে আমাদের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়েছে, তাহলে তাদের সাহস করে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও দাবি করেছেন, নৌবাহিনী ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওমান উপসাগরের শেষ প্রান্তে ৩০০–৪০০ মাইল দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। নাঈনি বলেন, এসব জাহাজ উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং মেরামতের জন্য এলাকা ছাড়তে হয়েছে। এছাড়া, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের রাডার, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ ডিপো এবং বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
নাঈনি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বধারণার ব্যর্থতাও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, “২৮ ফেব্রুয়ারি যদি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হতেন, তাহলে দেশটি ভেঙে পড়বে—এমন ধারণার ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করেছিল। কিন্তু বাস্তবে শত্রুপক্ষই এখন বিভ্রান্ত ও হতাশার মধ্যে রয়েছে।”
আইআরজিসি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ব্যর্থতা স্বীকার করেছে এবং এখন ইরানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সংঘাত শেষ করার উপায় খুঁজছে। নাঈনি বলেন, “ইরান আক্রমণকারীদের শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যাবে। শত্রুপক্ষ যখন আমাদের সামরিক ও সামাজিক প্রতিরোধ ক্ষমতা মেনে নেবে, তখনই যুদ্ধ সমাপ্ত হবে।”
সামরিক অভিযানের পরিসংখ্যান (২৮ ফেব্রুয়ারি–বর্তমান)
| সামরিক উপাদান | পরিমাণ (প্রায়) | লক্ষ্যবস্তু |
|---|---|---|
| ক্ষেপণাস্ত্র | ৭০০ | যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল |
| ড্রোন হামলা | ৩,৬০০ | যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল |
| নৌবাহিনী অবস্থান | ৩০০–৪০০ মাইল দূরে সরে গেছে | ওমান উপসাগর |
এই তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি সামরিক ও কৌশলগতভাবে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। শত্রুপক্ষের সামরিক অভিযানে সীমাবদ্ধতা এবং ধীরগতির পদক্ষেপ যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইরানের পক্ষে প্রাধান্য পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা কৌশলগতভাবে সতর্ক হতে বাধ্য এবং যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য সমঝোতার পথ খুঁজছে।
