সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযানের সময় স্থানীয়দের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের জেরে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ষোলমাইল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে রায়গঞ্জ থানার এএসআই মামুনুর রশিদ এবং এএসআই মো. আমিনুল ইসলাম সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে বাজার এলাকায় উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে কিছু লোক পুলিশের কর্মকাণ্ডে আপত্তি তোলে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কয়েকজন ব্যক্তি অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর চড়াও হয়।
এই হামলার সময় এএসআই মামুনুর রশিদের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। সহকর্মী এএসআই আমিনুল ইসলাম দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, মাথায় গভীর আঘাতের কারণে তাকে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলার ঘটনায় চান্দাইকোনা ইউনিয়নের একটি স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন শেখ আনুর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলায় অংশ নেয়। তবে তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ প্রশাসন।
ঘটনার পরপরই রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ব্যাপক অভিযান শুরু করে। গভীর রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ক্ষুন্দ্র দৌলতপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৮) এবং কোদলাদিগি (গোদাইপুর) গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪০)।
এ ঘটনায় এএসআই মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও পাঁচ থেকে ছয়জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও গুরুতর অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল। তাই এ ধরনের ঘটনার দ্রুত ও কঠোর বিচার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন তারা।
নিচে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার তারিখ | ১৪ মার্চ |
| সময় | সন্ধ্যা |
| স্থান | ষোলমাইল বাজার, চান্দাইকোনা ইউনিয়ন, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ |
| আহত ব্যক্তি | এএসআই মামুনুর রশিদ |
| আঘাতের ধরন | মাথায় গুরুতর আঘাত, ৪টি সেলাই |
| গ্রেপ্তার | মনিরুল ইসলাম (২৮), জাহাঙ্গীর আলম (৪০) |
| মামলা | ৪ জন নামীয় ও ৫–৬ জন অজ্ঞাত আসামি |
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা এবং আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয়দের সহযোগিতাও কামনা করেছে প্রশাসন।
