হাটহাজারীতে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ মার্চ) গভীর রাতে পৌরসভার পশ্চিম ফটিকা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মুন্নি আক্তার (১৭) নামের ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাটহাজারী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হাসান। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অপেক্ষা করা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুন্নি আক্তার হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. বাহাদুরের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিম ফটিকা এলাকার ‘মা ম্যানশন’ নামের একটি বহুতল ভবনের ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করলেও এমন মর্মান্তিক ঘটনা কেউ কল্পনাও করেননি।

বুধবার রাতে মুন্নি নিজের শয়নকক্ষে প্রবেশ করার পর দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিবারের লোকজন কয়েকবার দরজায় ধাক্কা দিয়ে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এতে সন্দেহ হলে তারা প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান এবং পরে থানা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মুন্নি আক্তারের মরদেহ রয়েছে। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ঘটনার কিছু সময় আগে মুন্নি তার ছোট ভাইয়ের কাছে একটি ল্যাপটপ চেয়েছিল। কিন্তু ভাই সেটি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর অভিমান করে মুন্নি নিজের ঘরে চলে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, ওই ঘটনার জেরেই সে আবেগপ্রবণ হয়ে চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
নিহতের নামমুন্নি আক্তার
বয়স১৭ বছর
পিতার নামমো. বাহাদুর
স্থায়ী ঠিকানাগড়দুয়ারা ইউনিয়ন, হাটহাজারী
বর্তমান বাসস্থানপশ্চিম ফটিকা এলাকা, মা ম্যানশন ভাড়া বাসা
উদ্ধার সময়১১ মার্চ গভীর রাত
মরদেহের অবস্থাসিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত
উদ্ধারকারী সংস্থাহাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ
আইনি পদক্ষেপঅপমৃত্যু মামলা দায়ের

হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার পর তা ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলছে এবং ঘটনাটির পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মুন্নি শান্ত স্বভাবের এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল একজন কিশোরী ছিল। তাকে ঘিরে আগে কোনো ধরনের বড় পারিবারিক বা সামাজিক সমস্যার কথা শোনা যায়নি। তাই হঠাৎ এমন ঘটনা ঘটায় এলাকাবাসী বিস্মিত ও মর্মাহত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক অবস্থা অনেক সময় অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে থাকে। পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতি, মানসিক চাপ কিংবা সামান্য পারিবারিক বিরোধও কখনো তাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদের উচিত কিশোর সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, তাদের মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করা এবং প্রয়োজন হলে পরামর্শ বা সহায়তা নেওয়া।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে চূড়ান্তভাবে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।