ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নে তারাবির নামাজ চলাকালে ঘরে একা থাকা এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে দীর্ঘদিনের জমি–সংক্রান্ত বিরোধ জড়িত থাকতে পারে বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১১ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারী হালিমা বেগম (৬৫) ওই এলাকার বাসিন্দা মফিজুল সিকদারের স্ত্রী। ঘটনার সময় তার স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা পাশের মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী তোফাজ্জল এবং স্থানীয় ব্যক্তি লতিফ মেম্বারের সঙ্গে তাদের জমি–জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তারা সন্দেহ করছেন।
নিহতের ছেলে হারুন সিকদার বলেন, “আমাদের সঙ্গে তোফাজ্জল ও তার পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তারা একাধিকবার আমার মাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। আমরা যখন তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে যাই, তখনই তারা সুযোগ নিয়ে ঘরে ঢুকে আমার মাকে হত্যা করে। হত্যার পর তারা ঘর থেকে জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিল, কিছু নগদ টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।”
নিহতের স্বামী মফিজুল সিকদার জানান, তিনি নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে এসে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। ঘরে ঢুকে দেখেন ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। পরে খাটের ওপর স্ত্রীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। পরে স্থানীয়রা এসে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে ভোলা সদর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে—তোফাজ্জল ও লিটনের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর থেকেই তাদের বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।
ভোলা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
নিচে ঘটনাটির মূল তথ্যসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | হালিমা বেগম |
| বয়স | ৬৫ বছর |
| স্বামীর নাম | মফিজুল সিকদার |
| স্থান | উত্তর দিঘলদী ইউনিয়ন, ভোলা সদর |
| ঘটনার সময় | ১১ মার্চ, রাত সাড়ে ৯টা |
| সম্ভাব্য কারণ | জমি–সংক্রান্ত বিরোধ |
| বর্তমান অবস্থা | পুলিশ তদন্ত চলমান |
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
