নববধূকে অপহরণ, চাঁদা দাবি অভিযোগে ছাত্রদল নেতা

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় এক নববধূকে জিম্মি করে প্রবাসীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি এবং বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এলাকার এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম আবির ইফতেখার। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে উপজেলা ছাত্রদল।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌস রহমান মিলনের স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয়েছে, জেলার মামুদপুর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আবির ইফতেখারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্থিক লেনদেন ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

নোটিশে অভিযুক্তকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কেএম হাসান ও সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলামের কাছে লিখিতভাবে এবং স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে।

ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম বলেন, “লিটন মোল্লা নামের এক যুবকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে উত্থাপিত দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। আমরা অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে আবির ইফতেখারের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছি।”

অভিযুক্ত আবির ইফতেখার কালবেলাকে বলেন, “আমি কারও কাছে চাঁদা দাবি করিনি বা গৃহবধূকে জিম্মি করিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অসহায় মেয়েটি সাহায্য চেয়েছিল, তাই তার পাশে থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করেছি।”

এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয়রা সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন। এই ধরনের অভিযোগ উঠলে তা স্থানীয় ও সাংগঠনিক পর্যায়ে যথাযথ তদন্ত ও প্রতিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

অভিযোগের সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়বিবরণ
অভিযুক্তআবির ইফতেখার
পদবিমামুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি
অভিযোগনববধূকে জিম্মি করা, চাঁদা দাবি, মারধর
নোটিশ জারি করেছেনফেরদৌস রহমান মিলন, যুগ্ম আহ্বায়ক, ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রদল
নির্দেশিত সময়সীমা৩ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ও স্বশরীরে ব্যাখ্যা
সম্ভাব্য ব্যবস্থাসাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ
সামাজিক মাধ্যম প্রেক্ষাপটলিটন মোল্লার ভিডিও ভাইরাল হওয়া

স্থানীয়রা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং ছাত্রদল যৌক্তিক তদন্ত ও সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে সম্ভাব্য অন্যায় ও প্রতারণার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। বিষয়টি স্থানীয় জনমতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে কি না, তা এখন নজরকাড়ছে।