সিদ্ধিরগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ১৯, বড় মাদক জব্দ

নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ সম্প্রতি এক বিশাল ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে মাদক, চুরি ও জুয়া সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ১৫৭ পুরিয়া হেরোইন, ২০০ গ্রাম গাঁজা এবং ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযান জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকদমন কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। বুধবার (১১ মার্চ) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযান পরিচালনা ও নেতৃত্ব

নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করা হয়। এই দল দিনভর সিদ্ধিরগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোতে অভিযান চালায়। মাদক ব্যবসা, চুরি, জুয়া এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের ধরার জন্য তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির তালিকা

অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ও নাম নিম্নরূপ:

মো. মাসুদ (৩৭), মো. আলী আকবর (৫৫), মোসা. রত্না আক্তার হেনা (৪০), মো. আরিফ (৩৫), মো. রাজিব (৩২), মো. শান্ত মিয়া (১৯), রবিন (২৬), মো. আলী (২৮), মো. সাইফুল ইসলাম (২৭), মো. সাজ্জাদ (২২), মো. রুবেল (২৯), মো. সিদ্দিক (৩৫), মো. সজিব (২০), মো. মজনু (৪৩), আলামিন (২৭), আনিছ (৩২), মো. আব্দুল করিম (৩৮), মো. জাহাঙ্গীর (৪৫) এবং মো. দুলাল (৩০)।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১৩ জন সরাসরি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বাকিরা চুরি, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধে যুক্ত।

অভিযানের ফলাফল

বিষয়সংখ্যা/পরিমাণ
মোট গ্রেপ্তার১৯ জন
মাদক কারবারি১৩ জন
অন্যান্য অপরাধে গ্রেপ্তার৬ জন
উদ্ধার হেরোইন১৫৭ পুরিয়া
উদ্ধার গাঁজা২০০ গ্রাম
উদ্ধার ইয়াবা১৫ পিস

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করেছেন। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান চলমান থাকবে।