সংসদ অধিবেশন ঘিরে রাজধানীতে সমাবেশ নিষিদ্ধ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সভা–সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সংসদের কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা এবং সামগ্রিক জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাটি।

বুধবার প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, আগামী বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। সংসদ অধিবেশনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রতিরোধের লক্ষ্যে বুধবার রাত ১২টা থেকে বিশেষ এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন, বিক্ষোভ, শোভাযাত্রা বা মিছিল করা যাবে না। একই সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, দাহ্য পদার্থ, ক্ষতিকর রাসায়নিক কিংবা দূষণকারী কোনো বস্তু বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ অধিবেশন চলাকালে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলের একটি স্বাভাবিক অংশ। সংসদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিদেশি কূটনীতিকদের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে এই সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।

ডিএমপি জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হবে এবং পুলিশি টহল বাড়ানো হবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমাবেশ বা বিক্ষোভের চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীর যেসব সড়ক ও এলাকায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে, সেগুলো নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—

ক্রমএলাকা বা সড়কের সীমা
মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামটর ক্রসিং পর্যন্ত ময়মনসিংহ রোড
বাংলামটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও সড়কের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত
পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রীন রোড সংযোগ হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত
মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ (পুরাতন-২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল
রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন ৯ম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণির পর্যটন ক্রসিং
ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত
জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং উল্লিখিত সীমানার ভেতরের সব রাস্তা ও গলিপথ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে। যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে, যাতে সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন থাকে।

ডিএমপি রাজধানীর নাগরিকদের প্রতি এই নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় যানজট ও জনভোগান্তি এড়ানো যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই অধিবেশন দেশের আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ কারণে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।