,

জ্বালানি তেলের আমদানি বাড়ানোর বিকল্প উদ্যোগ

মার্চ মাসে দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি এড়াতে সরকার নতুন উৎস থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতি জাহাজে ২৫–৩০ হাজার টন তেল থাকে এবং এই মাসে মোট ১৬টি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছু জাহাজ সময়মতো পৌঁছাতে ব্যর্থ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চুক্তির বাইরে নতুন উৎস থেকে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা চলছে, যার মধ্যে ভারত থেকেও বাড়তি তেলের প্রস্তাব এসেছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জুন পর্যন্ত পরিশোধিত তেলের চুক্তি কার্যকর আছে। তবে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হলে সরবরাহকারীরা তেল পরিশোধনে সমস্যায় পড়তে পারেন। এতে মে মাসে চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহে বাধা তৈরি হতে পারে। সরকার জিটুজি, উন্মুক্ত দরপত্র বা সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তেল আমদানির বিকল্প পথ যাচাই করছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রতি মাসে গড়ে ১৫টি জাহাজে তেল আমদানি করে। মার্চে ১৬টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও যুদ্ধের কারণে নির্ধারিত সময়ে জাহাজ আসছে না।

মার্চ মাসে জাহাজের আসার পরিকল্পনা

তারিখআসা জাহাজমন্তব্য
১১ মার্চ৬ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে
১৩ মার্চ৩আসার কথা আছে
৩১ মার্চ৭নিশ্চিত তবে সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই দিন পর ইরান এই প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জাহাজ পার হচ্ছে। সরকার ইরানকে নিরাপদ পরিবহনের জন্য অনুরোধ করেছে এবং ইরান আশ্বস্ত করেছে, যাতে বাধা না আসে।

সাপ্লাইয়ের অস্থিরতার কারণে ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। মোটরসাইকেল ও গাড়িতে তেলের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কূটনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ গাড়ির জন্য সীমা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, মার্চে সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। এপ্রিল ও মে মাসের জন্য সরকার বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে। আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত থেকেও বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

ভারত থেকে পাইপলাইনে ডিজেল আনার জন্য ২০১৭ সালে নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এ বছর ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল আসার কথা থাকলেও অতিরিক্ত ৬০ হাজার টন সরবরাহের প্রস্তাবও রয়েছে। প্রতি চালানে ৫ হাজার টন ডিজেল আসে।

ভারতের মাধ্যমে তেল সরবরাহ

উৎসপরিমাণ (টন)সরবরাহ মাধ্যম
নুমালিগড় রিফাইনারি১,২০,০০০পাইপলাইন
অতিরিক্ত প্রস্তাব৬০,০০০পাইপলাইন
আইওসিএল১,০৫,০০০সমুদ্রপথ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে তেল পরিবহনের খরচ বেড়ে গেছে। ভারতের পাইপলাইন পরিবহনে প্রতি ব্যারেলের খরচ ৫.৫ ডলার, সমুদ্রপথে ৪৫–৭৬ ডলার পর্যন্ত। বিপিসি এখন বিভিন্ন প্রস্তাব যাচাই করছে। সরবরাহের সক্ষমতা, গুণমান ও মূল্য বিবেচনা করে সেরা উৎস বেছে নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ অপরিহার

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।