পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় গোমস্তাপুরে তিনজন আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় একটি জ্বালানি তেল পাম্পে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় পাম্প ম্যানেজারসহ মোট তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে রহনপুর পৌরসভার খয়রাবাদ এলাকায় অবস্থিত রায়হান ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নাচোল থানার গাড়িচালক কনস্টেবল শওকত আলী থানার একটি সরকারি যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় মোবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সরকারি স্লিপসহ ওই জ্বালানি পাম্পে যান। তিনি পাম্পে পৌঁছে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী স্লিপ জমা দেন এবং প্রয়োজনীয় মোবিল সরবরাহের অপেক্ষায় নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করেন।

ঘটনার সময় পাম্পটির মালিক হিসেবে পরিচিত আব্দুল্লাহ আল রায়হান সেখানে উপস্থিত হন বলে জানা যায়। তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেন আলিমের ছোট ছেলে। পাশাপাশি তিনি গোমস্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাদা পোশাকে অবস্থানরত কনস্টেবল শওকত আলী পাম্পে তেল সরবরাহ বা মোবিল প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে কথাবার্তার এক পর্যায়ে কথিতভাবে দুর্ব্যবহারের শিকার হন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং অভিযোগ অনুযায়ী তাঁর ওপর শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, কনস্টেবল শওকত আলী পাম্পের ক্যাশ কাউন্টারের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং মোবিল সংগ্রহের অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় কথাকাটাকাটির পর তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন। তারা আরও জানান, এর আগে একই পাম্পে সাধারণ গ্রাহক ও উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্যকে দ্রুত গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, আহত অবস্থায় কনস্টেবল শওকত আলীকে হাসপাতালে আনা হলে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এদিকে ঘটনার পর পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে রাজি হননি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম জানান, ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাম্প ম্যানেজারসহ মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পর