চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় তিন বছরের শিশু নাবিলা আক্তারকে অপহরণ থেকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণের ঘটনায় ব্যবহৃত সিএনজি সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশু নাবিলা নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরেছে, যা স্থানীয় কমিউনিটি ও পুলিশ প্রশাসনের জন্য এক বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৭ মিনিটে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের বৈজ্জ্যাখালী গেইট সংলগ্ন সেন্টমার্টিন ক্লাবের পূর্ব পাশে নাবিলা আক্তার তার সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। হঠাৎ অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতীরা সিএনজি যোগে শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। শিশুটির পিতা একইদিনে রাউজান থানায় নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি নং–৪৮৮) দায়ের করেন।
পরবর্তীতে অপহরণকারীরা শিশুটির পিতার মোবাইলে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খানের নির্দেশনায় রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে।
অভিযানের মাধ্যমে তিনজনকে বিভিন্ন স্থানে থেকে আটক করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে নাবিলা আক্তারকে উদ্ধার করা হয় এবং শিশুর নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে এবং পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে প্রেরণ করে।
গ্রেপ্তারদের বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| নাম | বয়স | মন্তব্য |
|---|---|---|
| রুবেল | ৪৫ | প্রধান অপহরণকারী |
| মো. জাহেদ | ২৬ | সহযোগী |
| মুনসুর আলম | ৩২ | সহযোগী |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি ও নিরাপদ খেলার স্থান তৈরির গুরুত্ব অপরিসীম। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম ও পুলিশি তৎপরতার সমন্বয় এই সাফল্য নিশ্চিত করেছে।
শিশুর পরিবার পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও কমিউনিটির সহায়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। পুলিশও সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপহরণ প্রতিরোধে স্থানীয় কমিউনিটির সহায়তা অপরিহার্য।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, আধুনিক প্রযুক্তি, সমন্বিত পুলিশ অভিযান এবং কমিউনিটির সচেতনতা মিলিত হলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
