১১ দিনে ৩৬৭ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা উত্তেজনার প্রভাবে আকাশপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গত ১১ দিনে মোট ৩৬৭টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে এবং হাজারো যাত্রীকে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখায় ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী অনেক ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এসব দেশের আকাশপথ ব্যবহার করেই সাধারণত দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বিমান চলাচল পরিচালিত হয়। ফলে আকাশপথে সীমাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় বিমান সংস্থাগুলোকে বাধ্য হয়ে ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক এবং নতুন কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা যাত্রীদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়েছে। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ের আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত হলেও শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা শুনে অনিশ্চয়তায় পড়ছেন। কেউ কেউ আবার নতুন সময়সূচি অনুযায়ী যাত্রার জন্য অপেক্ষা করছেন।

গত কয়েক দিনে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাতিল হওয়া ফ্লাইটের দৈনিক পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো—

তারিখবাতিল ফ্লাইট
২৮ ফেব্রুয়ারি২৩
১ মার্চ৪০
২ মার্চ৪৬
৩ মার্চ৩৯
৪ মার্চ২৮
৫ মার্চ৩৬
৬ মার্চ৩৪
৭ মার্চ২৮
৮ মার্চ২৮
৯ মার্চ৩৩
১০ মার্চ (রাতের পর)৩২

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে আরও ৩২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব ফ্লাইটের মধ্যে কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৪টি, গালফ এয়ারের ৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটসের ৪টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ৩টি ফ্লাইট রয়েছে।

বিমান সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে। আকাশপথ ধীরে ধীরে খুলে গেলে বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য বিকল্প ভ্রমণ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর বিমানবন্দরে আসার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি বিবেচনায় যাত্রীদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, শ্রমবাজার এবং প্রবাসী যাত্রী পরিবহনের ওপর এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।