জামিন নিশ্চিতের জন্য এক কোটি টাকা দাবির কথোপকথন ফাঁস

চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর জামিন নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশিত হোয়াটসঅ্যাপ রেকর্ডিং অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের এক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার তাঁর পরিবারের কাছে জামিনের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করেছেন।

মামলার প্রেক্ষাপট

ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই ২০২৪ সালে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ অনুসারে, ওই ঘটনায় তিনজন নিহত হন, এবং পরবর্তী দুই দিনে আরও দুইজন নিহত হয়। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন।

ফজলে করিমের পরিবার জানিয়েছে, সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কথোপকথনে তিনি জানান, “আমি ওয়ান ক্রোরের কথা বলেছিলাম” এবং অগ্রিম ১০ লাখ টাকার প্রস্তাবও রেখেছেন। তবে পরিবারের সদস্যরা কখনো টাকা দেননি; বরং তাঁরা কথোপকথন রেকর্ড করেন এবং দুর্নীতির প্রমাণ সংগ্রহের জন্য এগিয়ে যান।

আইসিটি তৎকালীন ও বর্তমান পদাধিকার

সাইমুম রেজা তালুকদার ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ এবং ইন্টারনেট সিকিউরিটি ও গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ। আইসিটিতে যোগদানের আগে তাঁর মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা সীমিত ছিল। অভিযোগ প্রকাশ পেলে তাঁকে মামলাটি থেকে সরানো হয়, যদিও অন্যান্য দায়িত্বে তিনি থাকেন।

তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি জানার পর পদক্ষেপ নেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে এবং চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব নেন। এর পর সাইমুম রেজা পুনরায় ফজলে করিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, জামিনের প্রক্রিয়া এবং অর্থের বিষয় উত্থাপন করেন।

হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন ও ঘুষ দাবি

ফজলে করিমের পরিবার রেকর্ড করেছে, সাইমুম রেজা মোট ২৬ বার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অন্তত ১৪ বার তিনি ঘুষ বা অর্থ গ্রহণের বিষয় উত্থাপন করেছেন। পরিবার দাবি করেছেন, প্রাথমিক আলাপ রেকর্ড হয়নি, কিন্তু পরবর্তী কথোপকথনে কিস্তিতে অর্থ প্রদানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

নিচের টেবিলে মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
অভিযুক্তএ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী
মামলার ধরনমানবতাবিরোধী অপরাধ, জুলাই ২০২৪ হত্যাকাণ্ড
গ্রেপ্তার তারিখ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
দায়িত্বরত প্রসিকিউটরসাইমুম রেজা তালুকদার
দাবি করা অর্থএক কোটি টাকা, অগ্রিম ১০ লাখ টাকা
যোগাযোগের সংখ্যামোট ২৬ বার, সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে
আইসিটি চিফ প্রসিকিউটর২০২৫: তাজুল ইসলাম, ২০২৬: আমিনুল ইসলাম
পরিবারের পদক্ষেপকথোপকথন রেকর্ড করা, আইনমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানো

ঘটনার তাৎপর্য

এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক আদালতের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে। প্রসিকিউটরের পদত্যাগ ২০২৬ সালের মার্চে নিশ্চিত হয়। ফজলে করিমের পরিবারের দাবী, এই ঘটনা আইনি প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রসিকিউটরের বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, অর্থের বিষয়টি এককভাবে তার পক্ষে সম্ভব নয়, এবং এটি একটি দলগত প্রক্রিয়ার অংশ। তবে পরিবারের কথায়, এটি মানবিক ও আইনি স্বচ্ছতার প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে।