ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ময়দান এখন কেবল গোলাবারুদ আর মিসাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের (EW) এক বিশাল পরীক্ষাগারে। সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের অভাবনীয় সাফল্য দেখে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্তত ১১টি দেশ কিয়েভের কাছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছে।
Table of Contents
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব
সোমবার ইউক্রেনের শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইরানের প্রতিবেশী মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্র এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ ধরনের অনুরোধ এসেছে। ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে রাশিয়ার মোতায়েন করা ইরানি ড্রোনের আক্রমণ যেভাবে সফলভাবে রুখে দেওয়া হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য কাজে লাগাতে চায়।
জেলেনস্কি বলেন, “ইউক্রেনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ইউক্রেনের এই যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা অংশীদার রাষ্ট্রগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য একটি অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে।”
ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও ইউক্রেনের পাল্টা ব্যবস্থা
যুদ্ধের গত চার বছরে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর হাজার হাজার ইরানি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করার পাশাপাশি সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়ার জন্য ইউক্রেন অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW) ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ইডব্লিউ মূলত এমন একটি প্রযুক্তি যা রেডিও তরঙ্গ, রাডার বা জিপিএস সিগন্যাল জ্যাম করার মাধ্যমে শত্রুর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
ইউক্রেনের এই প্রযুক্তির সক্ষমতা যাচাইয়ে নিচের টেবিলটি লক্ষ্য করা যেতে পারে:
| বিষয়ের নাম | বিবরণ ও সক্ষমতা |
| ইলেকট্রনিক অ্যাটাক (EA) | শত্রুর জিপিএস এবং রাডার সিগন্যাল জ্যাম করে ড্রোন বা মিসাইলকে লক্ষ্যচ্যুত করা। |
| ইলেকট্রনিক প্রটেকশন (EP) | শত্রুর জ্যামিং থেকে নিজস্ব যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখা। |
| ইলেকট্রনিক সাপোর্ট (ES) | শত্রুর সিগন্যাল শনাক্ত করে তাদের গতিবিধি বা লঞ্চিং প্যাড খুঁজে বের করা। |
| ইউক্রেনীয় উদ্ভাবন | স্বল্প খরচে পোর্টেবল জ্যামার তৈরি, যা ড্রোন বিধ্বংসী টিমের জন্য কার্যকর। |
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ইউক্রেনীয় সহায়তা
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আরও উল্লেখ করেছেন যে, গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের অনুরোধে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো রক্ষায় ইউক্রেন একটি বিশেষজ্ঞ দল এবং বিশেষ ড্রোন বিধ্বংসী প্রযুক্তি পাঠিয়েছে। এটি কিয়েভের জন্য একটি বড় কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ সাধারণত ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো, কিন্তু এখন খোদ পশ্চিমারাই ইউক্রেনের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে।
উপসংহার
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারে বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ সেনাবাহিনীতে পরিণত করেছে। জেলেনস্কি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের এই অভিজ্ঞতা মিত্র দেশগুলোর সাথে দর-কষাকষির সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দেবে এবং দেশটিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা বলয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করবে।
