চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে বৃহস্পতিবার যৌথ বাহিনীর বড় অভিযানের পথে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। রাস্তার ওপর ট্রাক রাখা, কালভার্ট ভাঙা এবং নালার স্ল্যাব উধাও করা এসব কর্মকাণ্ড অভিযানকে জটিল করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, এই প্রতিবন্ধকতাগুলো অভিযান শুরুর আগে গত রাতেই পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।
Table of Contents
সন্ত্রাসীদের বিভাজন ও নেতৃত্ব
জঙ্গল সলিমপুরে দুইটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয়। একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে আছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপরটির নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিনের বিরুদ্ধে গত জানুয়ারিতে র্যাব কর্মকর্তাকে হত্যার মামলা রয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকা বর্তমানে তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে।
| গোষ্ঠী নেতা | এলাকা নিয়ন্ত্রণ | পরিচিত ঘটনা |
|---|---|---|
| মোহাম্মদ ইয়াসিন | আলীনগর | র্যাব কর্মকর্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি |
| রোকন উদ্দিন | সলিমপুরের অন্যান্য অংশ | স্থানীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় |
অভিযান ও বাধা
অভিযান সকাল ছয়টায় শুরু হয়, যেখানে প্রায় ৪ হাজার যৌথ বাহিনী সদস্য অংশগ্রহণ করছেন। সীতাকুণ্ড, আলীনগর ও ছিন্নমূল এলাকা ঘিরে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।
সড়কে ট্রাকের ব্যারিকেড, ভাঙা কালভার্ট এবং ইট–বালি দিয়ে ভরাট করা প্রতিবন্ধকতা যৌথ বাহিনী সরিয়ে এগোতে বাধ্য হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “এটি একটি বৃহৎ অভিযান। বিভিন্ন সোর্স থেকে সন্ত্রাসীরা আগেই খবর পেয়েছে।”
অভিযান চলাকালীন সময়ে সন্ত্রাসী আস্তানায় প্রবেশ এবং অস্ত্র–গ্রেপ্তারের তথ্য এখনও অসম্পূর্ণ। তবে যৌথ বাহিনী পরিকল্পনা করছে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে অভিযান নির্বিঘ্নে চালানোর।
এলাকা ও ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট
জঙ্গল সলিমপুর সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্গত হলেও চট্টগ্রাম নগরের কাছাকাছি। এলাকা প্রায় ৩,১০০ একর বিস্তীর্ণ, পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি, পূর্বে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা। পাহাড়ি দুর্গম প্রকৃতির কারণে এটি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা।
| ভৌগোলিক তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| এলাকা | জঙ্গল সলিমপুর, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম |
| আয়তন | ৩,১০০ একর |
| সীমান্ত | পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি, পূর্বে হাটহাজারী, দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা |
অতীতের ঘটনা
গত জানুয়ারিতে র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন সন্ত্রাসীদের হামলায়। মামলায় ইয়াসিনসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ হয়েছে এবং ২০০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, সন্ত্রাসী ইউনিয়ন দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড় কেটে বসতি, প্লট-বাণিজ্য ও সশস্ত্র পাহারার মাধ্যমে এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। অভিযানের মাধ্যমে এই নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা এবং সন্ত্রাসীদের দমন করা লক্ষ্য।
এই অভিযানের ফলে আগামী দিনগুলোতে জঙ্গল সলিমপুরে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, তবে যৌথ বাহিনী সতর্ক রয়েছে সন্ত্রাসীদের যেকোনো প্রতিহিংসার মুখে।
