ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ সোমবার (৯ মার্চ) দেশের সাইবার অপরাধ তদন্তের আওতায় ৪৪৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেন। এই আদেশ ছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর আবেদনকে অনুমোদন করে জারি করা। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
Table of Contents
তদন্ত ও আবেদন
সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা আদালতে আবেদন জমা দেন। আবেদনে বলা হয়েছে যে, সিটি ব্যাংক পিএলসির সাবেক কর্মকর্তা শেখ মো. ওয়াজিহ উদ্দিন অনলাইনে প্রতারণার শিকার হয়ে ৫টি হিসাবের মাধ্যমে মোট ৫১ লাখ ১২ হাজার টাকা জমা প্রদান করেছিলেন।
তদন্তে আরও প্রকাশ, আবেদনের সঙ্গে জড়িত এসএম জুনাইদুল হক, ওমর হীত হিটলু, মেহেদী হাসান তালুকদার এবং আরও ৬১ জন ব্যক্তি ও তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর ৫৯৫টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে প্রায় ১,২১২ কোটি টাকা জমা এবং ১,২০৭ কোটি টাকা উত্তোলনের নজির রয়েছে।
লেনদেন বিশ্লেষণ
আর্থিক লেনদেনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, এই হিসাবগুলো নিম্নলিখিত অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত:
অনলাইন প্রতারণা ও জুয়া
অনলাইন গেমিং ও বেটিং
হুন্ডি বা দেশি–বিদেশি মুদ্রা পাচার
ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্রয়-বিক্রয়
শুল্ক ফাঁকি ও অর্থ পাচার
অতএব, আদালত এই ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধকে অত্যন্ত জরুরি মনে করেছে।
লেনদেনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| ব্যক্তির নাম / প্রতিষ্ঠান | হিসাব সংখ্যা | জমা টাকার পরিমাণ (কোটি টাকা) | উত্তোলন (কোটি টাকা) | মূল অভিযোগ |
|---|---|---|---|---|
| শেখ মো. ওয়াজিহ উদ্দিন | ৫ | ০.৫১ | ০ | অনলাইন প্রতারণা |
| এসএম জুনাইদুল হক ও সহযোগী | ৫৯৫ | ১,২১২ | ১,২০৭ | জুয়া, হুন্ডি, ক্রিপ্টোকারেন্সি |
| অন্যান্য ৬১ জন ব্যক্তি | অন্তর্ভুক্ত | অন্তর্ভুক্ত | অন্তর্ভুক্ত | অনলাইন প্রতারণা ও লেনদেন |
প্রভাব ও গুরুত্ব
আদালতের এই পদক্ষেপকে সাইবার অপরাধ দমন এবং অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, দেশের আর্থিক স্বচ্ছতা ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের অবরুদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।
মোটের উপর, ৪৪৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের সিদ্ধান্ত দেশের সাইবার নিরাপত্তা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ লেনদেনের বিরুদ্ধে একটি নির্ধারক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
