বিয়ার ফাঁদে প্রতারণা: স্বামীর অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার মো. আরিফ বিল্লাহ সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর স্ত্রী লাবিবা আক্তারের বিরুদ্ধে বিয়ের ফাঁদে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সদরপুর উপজেলা ডিজিটাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী মো. আরিফ বিল্লাহ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় মসজিদের ইমাম। তিনি জানান, ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর পারিবারিকভাবে লখারকান্দি এলাকার লুৎফর রহমান মোল্লার কন্যা লাবিবা আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়। তাদের সংসারে বর্তমানে তিনটি সন্তান রয়েছে।

আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আরিফ অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মসজিদে নামাজ পড়াতে গিয়েছিলেন, সেই সময় লাবিবা সন্তানদের রেখে বাসা থেকে চলে যান। পরে জানা যায়, তিনি অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন। আদালতের মাধ্যমে অনুসন্ধান করলে জানা যায়, লাবিবা পূর্বেও একাধিক বিয়ে করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছেন।

আবেদন অনুযায়ী লাবিবা আক্তারের বিয়ে ও প্রতারণার তথ্য সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

বছরস্বামী/প্রতিবাদীঘটনার বিবরণঅর্থের পরিমাণ
২০১২মনির হোসেন, নগরকান্দাবিয়ে, যৌতুক মামলা২,৬০,০০০ টাকা
২০১৫মাওলানা তারিকুল ইসলাম, রাজবাড়ীবিয়ে, দেনমোহর হাতানোপ্রায় ২,৫০,০০০ টাকা
২০১৯মো. আরিফ বিল্লাহ, সদরপুরবিয়ে, সন্তান তিনআদালতে দুই মিথ্যা যৌতুক মামলা (খারিজ)
২০২২মো. আরিফ বিল্লাহবাসা ছেড়ে চলে যাওয়াচলমান সিআর মামলা নং-২৩৩

আরিফ আরও অভিযোগ করেন, লাবিবা স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ সুদে বিনিয়োগ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, রোকছানা বেগমের কাছে ৯ লাখ টাকা এবং হান্নান মোল্লার কাছে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এছাড়া সম্প্রতি কিছু ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে লাবিবা তাঁর বাড়িতে গিয়ে বড় অংকের টাকা দাবি করেছেন এবং টাকা না দিলে মানহানিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে আরিফ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন থানায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরিফ বলেন, “এই নারী ও তার পরিবারের ধারাবাহিক প্রতারণায় আমি সামাজিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার কামনা করছি।”

অভিযুক্ত লাবিবা আক্তার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আল মামুন শাহ্ জানিয়েছেন, “এ পর্যন্ত ভুক্তভোগী বা অভিযুক্ত কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দেননি। অভিযোগ করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংবাদটি স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সচেতনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পরিবার ও সন্তানদের নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের একটি স্পষ্ট উদাহরণ উপস্থাপন করে।