রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ১৮৯৯টি মামলা দায়ের

ঢাকা মহানগরীর ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসন এবং সড়কপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গত দুই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ হাজার ৮৯৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে প্রেরিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

অভিযানের পটভূমি ও বিবরণ

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ও শুক্রবার (৬ মার্চ) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর আটটি বিভাগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সড়কে অনিয়ম প্রতিরোধ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করা এবং চালকদের আইন মানতে বাধ্য করতে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কেবল মামলা দেওয়াই হয়নি, বরং বড় ধরনের ত্রুটি থাকা ৬৩১টি গাড়িকে ডাম্পিং করা হয়েছে এবং সড়কের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো ২৭৩টি গাড়িকে রেকার করা হয়েছে।

বিভাগওয়ারি মামলার পরিসংখ্যান

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন জোনে যানবাহনের ধরন অনুযায়ী মামলার সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন। নিম্নে বিভাগভিত্তিক মামলার একটি তুলনামূলক সারণি উপস্থাপন করা হলো:

ট্রাফিক বিভাগের নামবাসট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসিএনজিমোটরসাইকেলমোট মামলা
রমনা বিভাগ১৩৩৬১১৯
লালবাগ বিভাগ১৩১০৭৪১৩৪
মতিঝিল বিভাগ১৩১৮৭৫১৩২
ওয়ারী বিভাগ২০৮৬৪১১১৬৩২০
তেজগাঁও বিভাগ১২১৬১৬১০২১৯০
মিরপুর বিভাগ১০২০৩৬১৫৩২৬৫
উত্তরা বিভাগ৪৭৫১৭৮১৮৬৪৬৫
গুলশান বিভাগ১৮১৮৩২১০৫২৭১
সর্বমোট১২৪২২১২৪৪৮৪৭১৮৯৯

সড়ক নিরাপত্তায় বিশেষ পর্যবেক্ষণ

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মামলার বড় একটি অংশই মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে হেলমেট না পরা, উল্টোপথে গাড়ি চালানো এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার কারণে মোটরসাইকেল চালকদের ওপর জরিমানার হার সবচেয়ে বেশি। উত্তরা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৬৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা ওই এলাকায় ট্রাফিক আইনের প্রতি চালকদের উদাসীনতার চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এর বিপরীতে রমনা বিভাগে মামলার সংখ্যা তুলনামূলক কম।

ডিএমপি জানিয়েছে, কেবল জরিমানা বা মামলা করাই তাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং চালক ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই মূল লক্ষ্য। অনেক ক্ষেত্রে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করা, স্টপেজ ছাড়া বাস থামানো এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসনে পুলিশ রেকারিং ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে।

ট্রাফিক বিভাগের পরবর্তী পদক্ষেপ

ডিএমপির ট্রাফিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগরের আটটি বিভাগে সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে রাতে ভারী যানবাহন ও ট্রাক চলাচলের ক্ষেত্রে এবং দিনের বেলা গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা রোধে বিশেষ টহল টিম কাজ করছে। ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ডিএমপি। নাগরিকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া একান্ত প্রয়োজন।