দ্বিগুণ দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিল সরকার

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষ ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার নিয়েছে। চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কাতারসহ অন্যান্য দেশগুলো সময়মতো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্পট মার্কেট থেকে প্রায় দ্বিগুণ দামে দুইটি এলএনজি কার্গো কিনতে।

পেট্রোবাংলার সূত্র জানায়, স্পট মার্কেট থেকে কেনা দুই কার্গোর জন্য সরকার প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করবে। তুলনামূলকভাবে, একই পরিমাণ এলএনজি গত মাসে মাত্র এক হাজার ১০০ কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল। অর্থাৎ, এবার প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে।

গত বুধবার ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দ্রুত এলএনজি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়। পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, “যুক্তরাষ্ট্রের গানভোর গ্রুপ থেকে একটি কার্গো কেনা হবে, যার প্রতি ইউনিট খরচ ২৮ দশমিক ২৮ ডলার। এছাড়া ভিটল কোম্পানি থেকে আরেকটি কার্গো ক্রয় করা হবে, যার প্রতি ঘনফুটের দাম ২৩ দশমিক শূন্য৮ ডলার। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।”

গানভোরের কার্গোর দাম প্রায় এক হাজার ২৭৯ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই ধরনের চালানের জন্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ছিল। গানভোরের কার্গো ১৫ বা ১৬ মার্চ দেশে পৌঁছাবে, ভিটলের কার্গো ১৮ বা ১৯ মার্চ দেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এরফানুল হক, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, জানিয়েছিলেন, মার্চে নির্ধারিত চারটি এলএনজি কার্গো ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে ১৫ এবং ১৮ মার্চ আসার কথা থাকা আরও দুটি জাহাজ এখনও আটকে আছে। এই কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের জন্য মঙ্গলবার ও বুধবার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো প্রার্থী অংশ নেয়নি। পরে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দুই কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

এলএনজি ক্রয় সংক্রান্ত তথ্য টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়বিবরণমন্তব্য
ক্রয়কৃত এলএনজি কার্গোদুইটিগানভোর ও ভিটল থেকে
মোট ব্যয়প্রায় ২৩০০ কোটি টাকাগত মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ
গানভোরের কার্গো মূল্য২৮.২৮ ডলার/মিলিয়ন বি.টি.ইউপ্রায় ১২৭৯ কোটি টাকা
ভিটলের কার্গো মূল্য২৩.০৮ ডলার/মিলিয়ন বি.টি.ইউআনুমানিক ১০২১ কোটি টাকা
আগমনের সম্ভাব্য তারিখগানভোর: ১৫-১৬ মার্চ, ভিটল: ১৮-১৯ মার্চবাংলাদেশে
মন্ত্রিসভার অনুমোদনরয়েছেদ্রুত ক্রয়ের জন্য
ক্রয়ের কারণসময়মতো সরবরাহ ব্যর্থতাজ্বালানি সংকট মোকাবিলা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার কারণে স্পট মার্কেট থেকে সরাসরি ক্রয় সরকারকে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় সহায়তা করবে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে দেশকে আরও স্থিতিশীল চুক্তি ও স্থানীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো অপরিহার্য।

সরকারের এই ক্রয় সিদ্ধান্ত প্রমাণ করছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের শীর্ষ সংস্থা তৎপর এবং সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির কোনো বড় সংকট তৈরি না হয়।