সোনালী জীবন বীমা কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোগে খুলনা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘কর্মজীবন নির্দেশনা বিশেষ প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক একটি পেশাগত উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি খুলনা বিভাগের শাখা ব্যবস্থাপকগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষতা বৃদ্ধি, পেশাগত কর্মপরিকল্পনা উন্নয়ন এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও গতিশীল করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির পরিচালক মোস্তফা কামরুস সোবহান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন পরিচালক শেখ মোহাম্মদ ড্যানিয়েল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনুপম দাস এবং এমদাদুল হক সাহিল। এছাড়া সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমদাদুল হক সাহিল।
এ কর্মসূচিতে খুলনা অঞ্চলের শাখা ব্যবস্থাপক, একক ব্যবস্থাপক এবং আর্থিক সহযোগী সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। এতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, গ্রাহক সেবা আরও উন্নত করা এবং কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিভাগে সোনালী জীবন বীমা কোম্পানি লিমিটেডের ১৫টি শাখা অফিসের মাধ্যমে ৬২ হাজারের বেশি বীমা গ্রাহক নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রথম বর্ষ এবং নবায়ন মিলিয়ে এই অঞ্চল থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকার বীমা চাঁদা আয় হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট বীমা চাঁদা আয় ছিল ৪৫ কোটি টাকার বেশি।
বীমা দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রেও কোম্পানিটি ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রেখেছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত খুলনা বিভাগে প্রায় ৫ কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে এই পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটির বেশি।
খুলনা অঞ্চলে মোট ৭ হাজার ৯৯ জন মাঠকর্মী কর্মরত আছেন। এর মধ্যে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নতুনভাবে ২৫৭ জন বীমা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা নিয়মিতভাবে গ্রাহক সেবা প্রদান করছেন।
বীমা দাবি পরিশোধের সামগ্রিক অগ্রগতির তথ্য নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বছর | বীমা দাবি পরিশোধের পরিমাণ |
|---|---|
| ২০২৩ | ৪৫ কোটি টাকার বেশি |
| ২০২৪ | ১৫০ কোটি টাকার বেশি |
| ২০২৫ | ৪৩২ কোটি টাকার বেশি |
| ২০২৬ (মার্চ পর্যন্ত) | প্রায় ১০০ কোটি |
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করবে এবং সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আরও জানান, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের পেশাগত উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
