ব্যাংক শাখা ও ব্যবসাকেন্দ্রের জন্য সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি দেশের ব্যাংক শাখা ও অন্যান্য ব্যবসাকেন্দ্রের জন্য সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করেছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যদি ব্যাংকের স্থাপনার ভাড়া নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার মধ্যে থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে ভাড়া যদি নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে, অথবা স্থাপনার মালিক এবং ব্যাংকের পরিচালক বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির মধ্যে সম্পর্ক থাকে, সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে নতুন ভাড়া চুক্তি করতে পারবে, বিদ্যমান চুক্তি নবায়ন করতে পারবে এবং ব্যবসাকেন্দ্র স্থানান্তর বা প্রধান কার্যালয় ও নিয়ন্ত্রণাধীন বিভাগের স্থাপনা ভাড়া গ্রহণও করতে পারবে। তবে অগ্রিম অর্থপ্রদান, স্থাপনা ব্যয়, ভাড়া বৃদ্ধির হার এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আগের নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

নির্ধারিত সর্বোচ্চ ভাড়া অঞ্চলভেদে নিম্নরূপ:

জেলা/এলাকাসিটি করপোরেশন/শহর‘ক’ শ্রেণির পৌরসভাপল্লি এলাকাসর্বোচ্চ প্রতি বর্গফুট ভাড়া (টাকা)
ঢাকাসিটি করপোরেশন২৮২৪১০৪
চট্টগ্রামসিটি করপোরেশন২৭২০৬১
রাজশাহীসিটি করপোরেশন২৫১৩৩৪
সিলেটসিটি করপোরেশন২২১৬৪০
খুলনাসিটি করপোরেশন২১১৩৩৪
রংপুরসিটি করপোরেশন১৭১৩৪৫
বরিশালসিটি করপোরেশন২০১৪৪৮
ময়মনসিংহসিটি করপোরেশন১৯১৪৩৬

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভবন ও ফ্লোরের অবস্থান, স্থাপনার মান, সুবিধা ও নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে ভাড়া সর্বোচ্চ সীমার মধ্যে যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ব্যাংক শাখার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া চুক্তির মেয়াদ পূর্তির সময় স্থানান্তরের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভাড়া অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।

জানা গেছে, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে নতুন শাখা এবং প্রধান কার্যালয়ের জন্য ভবন ভাড়া নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছিলেন। প্রায় নয় মাস ধরে কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে সমস্যা সৃষ্টি হয়। অনেক ভবন ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া চলে গেছে, যার ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা পড়েছে।

নতুন নির্দেশনার ফলে ব্যাংকগুলো দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে ভাড়া চুক্তি করতে পারবে, শাখা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি পাবে। এটি ব্যাংক শাখা এবং ব্যবসাকেন্দ্র পরিচালনায় ভাড়া সংক্রান্ত জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগের স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করবে।