গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার চলতি বছর সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিদ্যা, সাহিত্য, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা, জনপ্রশাসন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করবে। সংস্কৃতি অঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ (মরণোত্তর) এবং জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-এর নির্মাতা ও উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) এই বছর এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পাচ্ছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) হুমায়ুন কবির বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার এই পদক প্রদান করছে।” মনোনীত তালিকায় এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত)-এর নাম সাত নম্বরে এবং বশির আহমেদ (মরণোত্তর)-এর নাম আট নম্বরে স্থান পেয়েছে।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যাকে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং নারী শিক্ষাসহ দেশের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য এই পদক দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর); বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদানের জন্য অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম; চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল; সাহিত্য ক্ষেত্রে ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর); ক্রীড়া ক্ষেত্রে জোবেরা রহমান (লিনুন); পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন; সমাজসেবা বা জনসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী (মরণোত্তর), এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, মো. সাইদুল হক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর); জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর); গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া; এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।
নিচের সারণিতে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬-এর মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| শ্রেণি | মনোনীত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান | অবদান/ক্ষেত্র |
|---|---|---|
| সংস্কৃতি | এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) | ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-এর নির্মাতা ও উপস্থাপক |
| সংস্কৃতি | বশির আহমেদ (মরণোত্তর) | সংগীতশিল্পী, উপমহাদেশের কিংবদন্তি |
| রাজনৈতিক ও স্বাধীনতা | বেগম খালেদা জিয়া | স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষা |
| মুক্তিযুদ্ধ | ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ | মুক্তিযুদ্ধে অবদান |
| মুক্তিযুদ্ধ | মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর) | মুক্তিযুদ্ধে অবদান |
| বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম | বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদান |
| চিকিৎসাবিদ্যা | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল | চিকিৎসা সেবা |
| সাহিত্য | ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর) | সাহিত্যে অবদান |
| ক্রীড়া | জোবেরা রহমান (লিনুন) | ক্রীড়া উন্নয়ন |
| পল্লী উন্নয়ন | পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন | পল্লী উন্নয়নে অবদান |
| সমাজসেবা | ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী (মরণোত্তর) | জনসেবা ও স্বাস্থ্য |
| সমাজসেবা | এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ | শিশু কল্যাণ |
| সমাজসেবা | মো. সাইদুল হক | স্বাস্থ্য ও জনসেবা |
| গবেষণা ও প্রশিক্ষণ | মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া | শিক্ষা ও গবেষণা |
| পরিবেশ | আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) | পরিবেশ সংরক্ষণ |
সরকার জানিয়েছে, শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীতদের হাতে এই মর্যাদাপূর্ণ পদক তুলে দেওয়া হবে। বিশেষভাবে সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য বশির আহমেদ ও হানিফ সংকেতের নির্বাচনে শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষদের মধ্যে আনন্দ ও গৌরবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে গণ্য হয় এবং এটি জীবদ্দশায় বা মরণোত্তর বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্তির মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং ঐতিহাসিক অঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি হবে এবং নতুন প্রজন্মকে দেশসেবায় উৎসাহী করবে। এই পদক দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৃষ্টিশীলতা, অধ্যবসায় এবং মানবকল্যাণে অবদানের গুরুত্ব পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেবে।
