রাবিতে জিএসের উগ্র আচরণে উত্তেজনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র সংসদ (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের অসভ্য ও বেপরোয়া আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। তার শারীরিক ভাষা, আচরণ এবং বক্তব্যের ধারা এমনভাবে প্রকাশিত হচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশ নেগেটিভ প্রভাবের মুখে পড়ছে।

সোমবার রাকসু ভবনে ছাত্র অধিকার পরিষদের রাবি শাখার সভাপতি মেহেদী মারুফ ও কয়েকজন নেতার সঙ্গে আম্মারের তীব্র বাগবিতণ্ডা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি চেয়ার ছেড়ে কয়েকবার লাফিয়ে ওঠেন এবং তর্জনী উঁচিয়ে হুমকি দেন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।

মেহেদী মারুফ ফেসবুকে উল্লেখ করেছেন যে, রাকসুর ফরজ কার্যক্রমের পরিবর্তে আম্মার নফল কার্যক্রমে বেশি মনোযোগী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আম্মারের উত্তেজিত মন্তব্যে শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রশ্ন করলে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

ঘটনা/বিবরণতারিখমন্তব্য ও পর্যালোচনা
জিএস ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাদের বাগবিতণ্ডা২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ভিডিও ভাইরাল, সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা
ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা ও পোস্ট ভাইরাল১৮ জানুয়ারি ২০২৬শিক্ষক ও ছাত্রদল প্রতিবাদ জানায়
পোষ্য কোটা বিরোধী আন্দোলনে অবরুদ্ধকরণ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫উপ-উপাচার্য ও উপ-রেজিস্টারের সঙ্গে ধস্তাধস্তি; তদন্ত কমিটি গঠন
প্রাক্তন ছাত্রদল নেতার উপর হেনস্তার ভিডিও৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ঘটনা তদন্তাধীন, হত্যাকাণ্ড মামলা রয়েছে

এছাড়া, আম্মারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তিনি বিশেষ ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করে উসকানি, বিদ্রুপাত্মক ও ঘৃণাসূচক পোস্ট দেন। নিজের প্রোফাইলে তিনি নিজেকে ‘জীবন্ত গাজী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, তার অনুগামীদের সক্রিয়তা শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার সাহস হ্রাস করেছে।

সিনিয়র শিক্ষকরা মনে করছেন যে, নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হলেও তার আচরণ ছাত্রসুলভ নয় এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠনমূলক পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে। ২০১৪ সালের ঘটনায় এক ছাত্র আহত হলেও, আম্মারের ক্রমবর্ধমান বিতর্কিত আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে।

রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, “আম্মারের অসংযত ও উগ্র আচরণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিব্রত ও শঙ্কিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিগুলো প্রতিবেদন দিলে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কীভাবে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করবে, তা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক ও কর্মচারীরা ইতিমধ্যেই কর্মবিরতি এবং বিবৃতির মাধ্যমে পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকরা একমত যে, আম্মারের উগ্র আচরণ দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও ভাবমূর্তির জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।