নারী এশিয়ান কাপের ‘বি’ গ্রুপে অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ। এই গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন ও সাবেক চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া রয়েছে। টুর্নামেন্টে মোট ১২ দল খেলছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ফিফা র্যাংক (৭) রয়েছে উত্তর কোরিয়ার। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার কোচ রি সন হো বাংলাদেশ দলের প্রশংসা করেছেন এবং তিনজন খেলোয়াড়কে বিশেষভাবে নজরে রাখার কথা জানিয়েছেন।
উত্তর কোরিয়া কোচ বলেছেন, “বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের আক্রমণভাগ দ্রুত এবং কার্যকর। বিশেষ করে রক্ষণ থেকে আক্রমণে যাওয়ার সময় তারা খুবই দক্ষ। আমাদের রক্ষণভাগকে আরও মনোযোগী হতে হবে যাতে তারা গোলের সুযোগ না পায়।”
তিনজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করেন রি সন হো। এর মধ্যে ১৭ নম্বর জার্সিধারী ঋতুপর্ণা চাকমাকে বিশেষভাবে সতর্ক করার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলছেন, “ঋতুপর্ণা বাম প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ করতে সক্ষম, যা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্য দুই খেলোয়াড়ও বিপজ্জনক, তবে নাম ও জার্সি নম্বর সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করিনি।”
বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচে চীনের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্সও নজরকাড়া ছিল। ঋতুপর্ণা এবং মনিকারা চীনের ডিফেন্স প্রাচীর ভেঙে কয়েকটি সম্ভাব্য গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। বিশেষ করে ১৪ মিনিটে ঋতুপর্ণার দূর থেকে নেওয়া শট দর্শকদের মন কাড়ে।
১২ দলের টুর্নামেন্টে তিনটি গ্রুপ রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের সঙ্গে তৃতীয় স্থানধারীদের মধ্যে দুই সেরা দলও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। কোচ রি সন হো বলেছেন, “আমরা প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই। গোল ব্যবধান বাড়ানো আমাদের মূল কৌশল নয়। তবে শেষ ম্যাচে সুবিধা পেতে গোল ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।”
বাংলাদেশ এবং উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি লড়াই দীর্ঘদিন পর। ২০১৯ সালে ঢাকা আবাহনী ক্লাব উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল ২৫ দলের বিপক্ষে খেলেছিল। ছয় বছর পর আবার মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে কোচ বলেছেন, “দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের মান অনেক উন্নত হয়েছে। বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দলগুলো দ্রুত উন্নতি করছে। গতকালের চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দেখেই বোঝা যায়, বাংলাদেশ এখন এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর মধ্যে।”
বাংলাদেশের অভিষেক এশিয়া কাপে অনেক প্রতিযোগীর নজর কাড়ছে। ঋতুপর্ণার দ্রুততা ও আক্রমণ দক্ষতা প্রতিপক্ষকে সতর্ক করছে। কোচ পিটার বাটলার ও খেলোয়াড়রা নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন এবং অভিষেক সাফল্য দেখিয়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবলে শক্ত অবস্থান প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
‘বি’ গ্রুপের দল ও ফিফা র্যাংকিং
| দল | ফিফা র্যাংকিং | মন্তব্য |
|---|---|---|
| চীন | ১৫ | বর্তমান চ্যাম্পিয়ন |
| উত্তর কোরিয়া | ৭ | সাবেক চ্যাম্পিয়ন, দ্রুত আক্রমণ |
| বাংলাদেশ | ৬৮ | অভিষেককারী, গতিশীল আক্রমণ |
| অন্যান্য দল | – | বিভিন্ন স্তরের দল |
উক্ত তথ্যের মাধ্যমে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল এখন দ্রুতগতির আক্রমণ ও নতুন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে এশিয়ার মানচিত্রে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করছে। ঋতুপর্ণা চাকমা তার দ্রুততা ও আক্রমণ দক্ষতার কারণে বিশেষভাবে চোখে পড়ছে।
