নারী এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ ২-০ গোলে হারলেও লাল-সবুজ দল মাঠের লড়াইয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তবে এই প্রশংসায় সন্তুষ্ট নয় ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার। তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টে ভাগ্যের জোরে নয়, কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে।
আজ সিডনি ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাটলার স্পষ্ট করে বললেন, আগামীকাল তিনবারের এশিয়ান কাপজয়ী উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার আগে দল এক পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামবে। বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তারের বিতর্কিত মন্তব্য এবং অন্যান্য বিষয় নিয়েও বাটলার খোলামেলা মত প্রকাশ করেছেন।
উত্তর কোরিয়াকে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“তাদের ফিফা র্যাঙ্কিং এশিয়ায় ৯ নম্বর (জাপানের পরে দ্বিতীয়), যা দেখিয়ে দেয় তারা টেকনিক্যালি অত্যন্ত দক্ষ এবং প্রতিভাধর। আমরা তাদের বিরুদ্ধে মাঠে দাঁড়াব। আমাদের পরিকল্পনা কার্যকর হবে।”
তিনি জানিয়েছেন, আগামী ম্যাচে একাদশে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি যোগ করেছেন,
“আমাদের কৌশল শুধু রক্ষণাত্মক নয়, আক্রমণাত্মকও হবে। গোল খাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আমরা সক্রিয়ভাবে খেলব।”
চীনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে বাটলার সরাসরি বলেছেন,
“না, আমরা এখানে আকাশকুসুম কল্পনা নিয়ে আসিনি। আমরা চাই প্রতিটি ম্যাচে খেলোয়াড়েরা উন্নতি করবে, শিখবে এবং মাঠে সেরাটা দেখাবে।”
মাহফুজা আক্তারের চীনের বয়স ও ফর্ম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে বাটলার বলেন,
“এ ধরনের মন্তব্য সম্পূর্ণ অসঙ্গত। চীনের খেলোয়াড়রা বিশ্বমানের লিগে খেলে, তাই তাদের প্রতি অসম্মানজনক এবং দায়িত্বহীন।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার বলেন,
“উত্তর কোরিয়া শক্তিশালী দল। আমরা কোচের নির্দেশনায় ভুলগুলো শুধরে ভালভাবে খেলব। কোচের প্ল্যানই আমাদের প্ল্যান।”
বাংলাদেশ-উত্তর কোরিয়া: ম্যাচ প্রস্তুতি সংক্ষিপ্ত
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| টুর্নামেন্ট | নারী এশিয়ান কাপ ২০২৬ |
| বাংলাদেশ কোচ | পিটার বাটলার (ব্রিটিশ) |
| অধিনায়ক | আফঈদা খন্দকার |
| আগের ম্যাচ | চীনের বিপক্ষে ২-০ হেরে গিয়েছে |
| ফোকাস | সক্রিয় খেলা, রক্ষণ ও আক্রমণ সামঞ্জস্য |
| প্রতিপক্ষ | উত্তর কোরিয়া (৩ বার এশিয়ান কাপ জয়ী, এশিয়ায় ফিফা র্যাঙ্ক ৯) |
বাটলার এবং অধিনায়ক উভয়ই নিশ্চিত করেছেন, দলের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত এবং প্রতিটি ম্যাচ শিক্ষার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশ মাঠে নিজেদের শক্তি ও কৌশল প্রমাণ করার জন্য প্রস্তুত।
